নদীয়া – নদিয়ার Shantipur-এর সরু গলি পেরোলেই কানে ভেসে আসে তাঁতের মৃদু ছন্দ। সেই ছন্দেই যেন লুকিয়ে আছে বাংলার রাজনীতির এক ভিন্ন চিত্র—যেখানে বিভাজনের বদলে সহাবস্থানই প্রধান সুর। রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান যখন উত্তপ্ত All India Trinamool Congress, Bharatiya Janata Party কিংবা বামেদের দ্বন্দ্বে, তখন এই প্রাচীন তাঁতপল্লিতে সেই বিভাজনের কোনো ছায়া নেই।
এখানে একই কারখানার ভিতরে পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে জোড়াফুল আর পদ্মছাপের শাড়ি। প্রতীক আলাদা হলেও তাঁতের টান এক, আর সেই টানেই বাঁধা কারিগরদের জীবনযাপন। তাঁদের কাছে রাজনীতি নয়, কাজই প্রধান—যে অর্ডার আসে, সেটাই তাঁরা নিখুঁত হাতে বুনে দেন।
West Bengal Assembly Election 2026-এর আগে এখন শান্তিপুরে ব্যস্ততার চরম সময়। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাঁতের কাজ। রাজু দাসের মতো বহু তাঁত মালিকের কারখানায় বাইরের জেলা থেকে আসছে হাজার হাজার শাড়ির অর্ডার। চাহিদা এতটাই বেশি যে অনেক জায়গায় অতিরিক্ত কারিগর নিয়োগ করতে হচ্ছে। এ বছর জোড়াফুল প্রতীকের শাড়ির চাহিদা তুলনামূলক বেশি, অন্যদিকে পদ্মছাপ শাড়িও নির্দিষ্ট এলাকায় সমান তালে তৈরি হচ্ছে।
তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে এই শিল্পেও। বিশেষ করে Strait of Hormuz ঘিরে অস্থিরতার কারণে রং ও কাঁচামালের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লেও লাভের অঙ্ক অনেকটাই কমে এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে কারিগরদের ওপরেও—মজুরি বাড়েনি সেই অনুপাতে, অথচ খরচ বেড়েছে।
তবুও নির্বাচনকালীন এই সময়টাই তাঁদের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ। বছরের বাকি সময় যখন কাজ কম থাকে, তখন এই কয়েক মাসই নতুন প্রাণ সঞ্চার করে শিল্পে। কারিগরদের কথায়, তাঁদের কাছে কোনো দল নেই—সব রঙই সমান। পেটের দায় আর কাজের প্রতি ভালোবাসাই তাঁদের এগিয়ে নিয়ে চলে।
শান্তিপুরের এই তাঁতশালাগুলি তাই নিঃশব্দে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—রাজনীতি মানুষকে ভাগ করতে পারে, কিন্তু জীবনের বাস্তবতা ও সহাবস্থান সেই বিভাজনকে মুছে দেয়। নানা রঙের সুতো যেমন একসঙ্গে মিশে সুন্দর শাড়ি তৈরি করে, তেমনই এখানে সহাবস্থানই হয়ে উঠেছে জীবনের মূলমন্ত্র।



















