শান্তি আলোচনার মাঝেই খেরসন ঘিরে রক্তক্ষয়, ড্রোন হামলায় শিশু-সহ বহু নিহতের দাবি রাশিয়ার

শান্তি আলোচনার মাঝেই খেরসন ঘিরে রক্তক্ষয়, ড্রোন হামলায় শিশু-সহ বহু নিহতের দাবি রাশিয়ার

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – রাশিয়া ও ইউক্রেনের দীর্ঘদিনের যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি ফেরানোর উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। এই লক্ষ্যেই সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের পর দ্রুত শান্তি চুক্তির সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেন ট্রাম্প। তবে সেই আশার মাঝেই শর্ত স্পষ্ট করেছেন জ়েলেনস্কি, আর একই সঙ্গে ইউক্রেনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। রাশিয়ার দাবি, খেরসন অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটেছে। মস্কোর অভিযোগ অনুযায়ী, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা খেরসনের একাধিক এলাকায় নতুন বছরের উদযাপনের সময় ড্রোন হামলা চালানো হয়, যেখানে এক শিশুসহ অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন বছর উদযাপনের সময় খেরসনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত অংশে একটি হোটেল ও ক্যাফেকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। সেই সময় বহু সাধারণ মানুষ নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনে অংশ নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার তথ্য প্রকাশ করে মস্কো জানায়, হামলার সময় এলাকায় সাধারণ নাগরিকদের ভিড় ছিল।
খেরসনের রাশিয়া নিযুক্ত গভর্নর ভ্লাদিমির সালদো জানিয়েছেন, উপকূলবর্তী গ্রাম খোরলিতে নতুন বছরের অনুষ্ঠান চলাকালীন পরপর তিনটি ড্রোন হামলা হয়। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষকেই লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আগুনে পুড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ৬ জন শিশু-সহ মোট ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মন্ত্রকের আধিকারিকদের দাবি, হামলার ধরন ও পরিকল্পনা দেখে এটিকে ‘নিঃসন্দেহে যুদ্ধাপরাধ’ বলা যায়। রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের একাংশ একে ‘জঙ্গি হামলা’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
এই ঘটনার পর রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ জানান, এই হামলার ‘প্রতিশোধ’ যুদ্ধক্ষেত্রেই নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও পাল্টা অভিযোগ তুলেছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের দিকে ২০০টিরও বেশি ড্রোন ছোড়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর আইন পাশ করে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলে রাশিয়া। খেরসন সেই চারটি অঞ্চলের অন্যতম। যদিও ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া অবৈধভাবে এই অঞ্চল দখল করে রেখেছে। শান্তি আলোচনার সম্ভাবনার মাঝেই এই নতুন রক্তক্ষয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top