বাঁকুড়া – ১০ জানুয়ারি বাঁকুড়ার শালতোড়ায় জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন কালো পাথরের খাদান খোলার কথা। পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরাতে সেই সভা থেকেই মাস্টারস্ট্রোক খেলেন তিনি। প্রতিশ্রুতির মাত্র সাত দিনের মধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে তার বাস্তব রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠল। শুক্রবার রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ১৭টি কালো পাথরের খাদান খুলতে ই-অকশনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং তা ইতিমধ্যেই সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি এই ১৭টি খাদানের ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে। অকশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরবর্তী দু’সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত প্রশাসনিক ও কারিগরি কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা থাকবে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকেই বাঁকুড়ার শালতোড়া এলাকায় খনন কাজ শুরুর সবুজ সঙ্কেত মিলতে পারে বলে আশাবাদী প্রশাসনিক মহল।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, ১০ জানুয়ারির সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, সরকারি ১৩৩ একর জমিতে মোট ১৮টি পাথরের খাদান রয়েছে। এই খাদান ও সংশ্লিষ্ট ক্রাশারগুলি পুরোদমে চালু হলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন। সেই সভাতেই অভিষেক স্পষ্ট করে বলেন, গত দু’মাস ধরে তিনি খাদানগুলি খোলার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং স্থানীয় মানুষের রুজি-রোজগারের বিষয়টি মাথায় রেখেই শালতোড়াকেই সভাস্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
ঘোষণার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় ১৭টি খাদানের ই-অকশন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তাৎপর্য বেড়েছে। যদিও অভিষেকের বক্তব্যে ১৮টি খাদানের কথা উঠে এসেছিল, আপাতত ১৭টির জন্যই অকশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ধাপে ধাপেই পুরো প্রক্রিয়া এগোবে এবং বাকি বিষয়গুলিও পরবর্তী পর্যায়ে চূড়ান্ত করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা খাদানগুলি খুললে এলাকার অর্থনীতিতে বড়সড় প্রভাব পড়বে। স্থানীয় শ্রমিকদের কাজের সুযোগ বাড়বে, পাশাপাশি পরিবহণ, হোটেল, ছোট ব্যবসা ও আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রগুলিও লাভবান হবে। প্রশাসনের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম ও শর্ত মেনেই খনন কাজ শুরু হবে।
সব মিলিয়ে, শালতোড়া ঘিরে কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা যে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ই-অকশন বিজ্ঞপ্তি। এখন নজর ১১ ফেব্রুয়ারির দিকে, যেদিন ঠিক হবে বাঁকুড়ার এই এলাকার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ছবিটা।




















