শিলিগুড়িতে বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মন্দির, মুখ্যমন্ত্রীর শিলান্যাসে ধর্ম, সংস্কৃতি ও পর্যটনের নতুন অধ্যায়

শিলিগুড়িতে বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মন্দির, মুখ্যমন্ত্রীর শিলান্যাসে ধর্ম, সংস্কৃতি ও পর্যটনের নতুন অধ্যায়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


উত্তরবঙ্গ – উত্তরবঙ্গকে ধর্ম, সংস্কৃতি ও পর্যটনের আন্তর্জাতিক মানচিত্রে তুলে ধরতে আরও এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। শিলিগুড়িতে গড়ে উঠতে চলেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও উচ্চতম মহাকাল মন্দির। পঞ্জিকা দেখে শুভক্ষণ নির্ধারণ করে শুক্রবার এই মহাপ্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলিগুড়ি শহরের মাটিগাড়া-লক্ষ্মী টাউনশিপ এলাকায় ১৭.৪১ একর জমি জুড়ে তৈরি হবে এই ‘মহাকাল মহাতীর্থ মন্দির’, যেখানে প্রতিদিন এক লক্ষ দর্শনার্থী সমাগমের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিলান্যাস মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিঘার জগন্নাথ ধাম ও নিউটাউনের দুর্গা অঙ্গনের পর এই মহাকাল মন্দির বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোর তৃতীয় মাইলফলক হবে। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে এক নম্বর করব বলেছিলাম, করেই ছাড়ব।” তাঁর বক্তব্য, এই মন্দির শুধু তীর্থস্থানই নয়, বিশ্ব পর্যটনেরও বড় আকর্ষণ হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিতভাবে মন্দিরের নকশা ও ভাবনা তুলে ধরেন। এখানে থাকবে বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি, মোট উচ্চতা ২১৬ ফুট, যার মধ্যে ১০৮ ফুট ব্রোঞ্জের মূর্তি এবং ১০৮ ফুট উচ্চ পেডেস্টাল। নন্দীগৃহের জন্য থাকবে দুটি ১০৮ ফুট উচ্চ পেডেস্টাল। মন্দির চত্বরের চারপাশে স্থাপিত হবে ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির, যা ভারতের ১২ জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিমূর্তির সংমিশ্রণ হিসেবে এক জায়গায় ‘সারা ভারত দর্শন’ করবে। দুটি প্রদক্ষিণ পথে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার ভক্তের সমাগম সম্ভব হবে।
মন্দিরের চার কোণে থাকবে চার দেবতা: দক্ষিণ-পশ্চিমে গণেশ, উত্তর-পশ্চিমে কার্তিক, উত্তর-পূর্বে শক্তি, এবং দক্ষিণ-পূর্বে বিষ্ণুনারায়ণ। দুটি বিশাল সভামণ্ডপে একসঙ্গে ৬ হাজারের বেশি মানুষ বসতে পারবেন। শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও কাজ করা হবে—মহাকালের কাহিনি ও মহিমা ফুটে উঠবে পাথরের শিল্পকর্ম ও ফ্রেস্কো পেন্টিংয়ে। এছাড়া থাকবে রুদ্রাক্ষ কুণ্ড ও অমৃত কুণ্ড, প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র, স্যুভেনির আর্কেড, ক্যাফেটেরিয়া, ডালা কমপ্লেক্স এবং পুরোহিতদের আবাসন।
শিলিগুড়িকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মন্দিরের পাশাপাশি শিলিগুড়িতে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার গড়ে তোলার জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজ্য সরকার জমি দেবে, বেসরকারি সংস্থা নির্মাণ করবে। তিনি বলেন, “এটা শুধু ধর্মের জায়গা নয়, বিজনেসেরও পবিত্র স্থান হবে। শিলিগুড়ি আর শুধু ট্রানজিট পয়েন্ট নয়।” পাহাড়ের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও সমতলের সংস্কৃতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে। ধর্ম, তীর্থ, পর্যটন এবং ব্যবসার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
শিলান্যাসের মুহূর্তের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আমার একটা টাইমিং ছিল। অমৃতকাল দেখে এসেছি। ৪টে ১৫ মিনিটেই শিলান্যাস করেছি। কেউ ভাববেন না, আমি পঞ্জিকা দেখি না।” মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মহাকাল মন্দির ট্রাস্টের সদস্য এবং ধর্মীয় গুরু। তিনি জানান, প্রকল্পটি শেষ হতে আনুমানিক আড়াই বছর সময় লাগবে।
পরিযায়ী শ্রমিক প্রসঙ্গেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজ বাংলা ভাষায় কথা বললেই আক্রমণ হচ্ছে। কারও জীবন নেওয়া ধর্ম নয়—জীবন দেওয়াই ধর্ম।”

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top