রাজ্য – সপ্তাহের প্রথম দিনেই শহর ও জেলার সবজি বাজারে দামের ওঠানামা চোখে পড়ার মতো। শীতের মরশুম জাঁকিয়ে বসায় একদিকে যেমন বাজারে সবজির জোগান বেড়েছে, তেমনই কিছু সবজির ক্ষেত্রে দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আজকের বাজারদর অনুযায়ী, বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও কয়েকটি সবজিতে হালকা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পেঁয়াজের বাজারে আজ মিশ্র চিত্র। বড় পেঁয়াজের গড় দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা হলেও খুচরো বাজারে তা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ছোট পেঁয়াজের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। গড়ে কেজিপ্রতি ৪৬ টাকা হলেও খুচরো বাজারে দাম পৌঁছেছে ৫৩ থেকে ৫৮ টাকায়। আলু এখনও সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা। আজ আলুর গড় দাম কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা এবং খুচরো বাজারে ৪০ থেকে ৪৪ টাকার মধ্যেই মিলছে।
টমেটোর দাম কিছুটা বেশি থাকলেও তা স্থিতিশীল রয়েছে। আজ টমেটো কেজিপ্রতি গড়ে ৩৮ টাকা, খুচরো বাজারে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সবুজ লঙ্কার দামও প্রায় একই, গড়ে ৪১ টাকা এবং খুচরো দরে ৪৭ থেকে ৫২ টাকা। শীতের মরশুমে এই দুই সবজি রান্নাঘরের নিত্যসঙ্গী হওয়ায় দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের নজর বেশি।
পাতাজাতীয় সবজির দামে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। আমরান্থ পাতা কেজিপ্রতি গড়ে ১৩ টাকায় মিলছে, খুচরো দরে ১৫ থেকে ১৭ টাকা। ধনেপাতা, শুলফা শাক ও কচু শাকের দামও ১৫ থেকে ১৯ টাকার মধ্যেই রয়েছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের কিছুটা স্বস্তি মিলছে।
ফল ও বিশেষ সবজির মধ্যে আমলার দাম সবচেয়ে বেশি। আজ আমলার গড় দাম কেজিপ্রতি ৯৫ টাকা, খুচরো বাজারে যা ১০৯ থেকে ১২১ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। নারকেলের দামও বেশ চড়া—গড় ৬৬ টাকা, খুচরো বাজারে ৭৬ থেকে ৮৪ টাকা। তবে কাঁচা কলা, কলার মোচা ও চালকুমড়োর মতো সবজি এখনও তুলনামূলকভাবে সস্তা রয়েছে।
ফুলকপি ও বাঁধাকপির বাজারে স্বস্তি বজায় রয়েছে। এই দুই সবজি গড়ে ২৯ টাকায় মিলছে এবং খুচরো বাজারে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকার মধ্যেই রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, শীতের মরশুমে জোগান বাড়ায় এই সবজিগুলির দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বেগুন, ক্যাপসিকাম, করলা ও বিনস জাতীয় সবজির দামে বড় কোনও পরিবর্তন নেই। মাঝারি বেগুন কেজিপ্রতি গড়ে ৪০ টাকা, বড় বেগুনের দাম কিছুটা বেশি। ক্যাপসিকাম ও করলার দামও ৪০ টাকার আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছে।
সব মিলিয়ে, সপ্তাহের শুরুতে সবজি বাজারে বড় কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। তবে ব্যবসায়ীদের আশা, শীতের জোগান আরও বাড়লে আগামী দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।




















