শুল্ক আরোপে বড় ধাক্কা ট্রাম্পকে, আপিল আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

শুল্ক আরোপে বড় ধাক্কা ট্রাম্পকে, আপিল আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



বিদেশ – মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর বড় ধাক্কা নেমে এল। যুক্তরাষ্ট্রের এক আপিল আদালত জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের উপর ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা বেআইনি। আদালতের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিকে ওলটপালট করে দিয়েছিল এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। যদিও এখনই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। ফলে আপাতত কিছুদিন আরও সময় পাবেন ট্রাম্প। তিনি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তকে “ভুল” আখ্যা দিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁর শুল্ক কার্যকরই থাকবে। ট্রাম্প লিখেছেন, “সব শুল্ক এখনও কার্যকর আছে! আজ এক পক্ষপাতদুষ্ট আপিল আদালত ভুলভাবে বলেছে আমাদের শুল্ক তুলে নেওয়া উচিত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমেরিকাই জিতবে।” তিনি আরও সতর্ক করে দেন, “যদি এই শুল্ক কখনও তুলে নেওয়া হয়, তবে তা দেশটির জন্য একেবারে বিপর্যয় ডেকে আনবে। এটি আমাদের আর্থিকভাবে দুর্বল করে দেবে, অথচ আমাদের শক্তিশালী থাকতে হবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, আদালতের এই রায় বহাল থাকলে তা আক্ষরিক অর্থেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ধ্বংস করবে। শ্রমিক দিবসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, “শুল্কই আমাদের শ্রমিকদের রক্ষার সেরা হাতিয়ার। দেশীয়ভাবে তৈরি উচ্চমানের পণ্যের উৎপাদক কোম্পানিগুলোকে সমর্থনের জন্য এই শুল্ক অপরিহার্য।” তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে জানান, “শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়াবে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় আমরা এই শুল্ক ব্যবহার করব জাতির কল্যাণে, এবং আমেরিকাকে আবার ধনী, শক্তিশালী ও ক্ষমতাশালী করে তুলব।”

শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত রায়ে জানায়, ট্রাম্পের বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধ। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বাণিজ্য আলোচনায় চাপ সৃষ্টি এবং বিদেশি সরকারগুলোকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে এই শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আদালত উপসংহারে জানায়, যদিও জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার সময় প্রেসিডেন্টের কিছু অতিরিক্ত ক্ষমতা থাকে, কিন্তু সেই ক্ষমতার মধ্যে শুল্ক আরোপের অধিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আদালতের রায় সত্ত্বেও ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা আপাতত কম। কারণ, এপ্রিলের প্রথম দফা শুল্কের পর ট্রাম্প বিকল্প আইনি ক্ষমতার আওতায় ভারতের ওপর আরও কয়েক দফা শুল্ক বসিয়েছিলেন। তিনি আগেই অনুমান করেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA)-এর আওতায় বসানো শুল্ক আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প একাধিক দেশের পণ্যের উপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করেছিলেন। বর্তমানে সর্বোচ্চ শুল্ক রয়েছে ভারত এবং ব্রাজিলের উপর, প্রায় ৫০ শতাংশ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেরও অবনতি ঘটেছে। শুধু আন্তর্জাতিক পরিসরেই নয়, দেশের অভ্যন্তরেও এই সিদ্ধান্তের জন্য ট্রাম্প ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এবার আদালতও জানিয়ে দিল, তাঁর এই শুল্কনীতি আইনসম্মত নয়।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top