রাজস্থান – রাজনীতির মঞ্চে শোক ও সিদ্ধান্ত—দু’টিই পাশাপাশি। একদিকে প্রয়াত অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুর রেশ, অন্যদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল এনসিপি। শনিবার বিকেল পাঁচটায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন সুনেত্রা পাওয়ার। দলীয় সূত্রে খবর, প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন তিনি।
এনসিপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্চ মাসে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন থাকায় আপাতত অর্থ দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবিসের কাছেই থাকবে। অধিবেশন শেষ হলে সেই গুরুত্বপূর্ণ দফতর এনসিপির হাতে যেতে পারে বলে দলীয় মহলে ইঙ্গিত। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পুনে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নেতৃত্ব ও দিশা স্পষ্ট করতেই সুনেত্রা পাওয়ারকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার প্রস্তাব উঠে আসে বলে জানা যাচ্ছে।
এই প্রস্তাব ঘিরে পওয়ার পরিবারের মধ্যেও আলোচনা হয়। বর্তমান পরিস্থিতি এবং দায়িত্বের গুরুত্ব বিচার করেই শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন সুনেত্রা পাওয়ার। শনিবার সন্ধ্যার শপথগ্রহণের মধ্য দিয়েই রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটতে চলেছে।
এনসিপি দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের বর্ষীয়ান নেতা ছগন ভুজবল জানান, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবিস স্পষ্ট করে দিয়েছেন—শনিবারই শপথগ্রহণ হলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। প্রশাসনিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতেই দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে বরামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের। অবতরণের সময় রানওয়ের কাছেই ভেঙে পড়ে চার্টার্ড বিমানটি। বিমানে থাকা পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অজিত পাওয়ারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, এক বিমানকর্মী এবং দুই পাইলট।
বৃহস্পতিবার বরামতীর বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ময়দানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য। তাঁর দুই পুত্র চিতায় আগুন দেন। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবিস, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, এনসিপি (এসসিপি) প্রধান শরদ পওয়ার, অভিনেতা রীতেশ দেশমুখ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। শোকের আবহেই মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




















