
নিজস্ব সংবাদদাতা,পশ্চিম বর্ধমান,১৮ই সেপ্টেম্বর : সবুজ সাথীর সাইকেল বিলি হচ্ছে টাকার বিনিময়ে। তাও আবার সরকারি স্কুলে। ৪০ টাকা না দিলে পাওয়া যাবে না সাইকেল। প্রধান শিক্ষকের এমন ফরমানে হতবাক পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা। মঙ্গলবার এরকম বিতর্ক ওঠে কুলটির মিঠানি হাইস্কুলে। সংবাদমাধ্যম প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করায় রে রে করে ছুটে আসেন। পাল্টা প্রশ্ন তোলেন স্কুলের ভেতর কেন ঢুকেছেন ? আপনাদের উত্তর দিতে বাধ্য নই। কিন্ত মুখ্যমন্ত্রী যেখানে বিনামূল্যে সাইকেল বিলি করছেন, সেখানে কোন যুক্তিতে আপনি ৪০ টাকা করে নিচ্ছেন ? প্রশ্নের জবাবে প্রধানশিক্ষক বৃন্দাবন পাল বলেন কে মুখ্যমন্ত্রী ? টাকা না নিলে কি করে কাজটা হবে ? আপনাকে কোনও উত্তর দেবো না। আমি যা করছি, ভালো করছি। আপনাকে উত্তর দেবো না। মারখুমি প্রধান শিক্ষক উত্তর না দিয়েই অফিসে ঢুকে পড়েন।
মঙ্গলবার পিকআপ ভ্যানে করে সবুজ সাথীর নতুন সাইকেলগুলি ঢুকে। জানাগেছে আসানসোলের পোলো ময়দানে সাইকেলগুলি রাখা ছিল। সেখান থেকেই ২০০ টি সাইকেল আনা হয় মিঠানি স্কুলের জন্য। নবম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের এই সাইকেল বিলি করা হয়। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা জানতে পারেন ৪০ টাকা করে জমা দিতে হবে ক্লাস টিচারের কাছে। তবেই পাওয়া যাবে সাইকেল। স্কুলের বেশির ভাগ পড়ুয়ারা দিন মজুর পরিবারের। তাদের কাছে অত টাকা নেই। অনেকের কাছে টানা না থাকায় স্কুল চলাকালীন বাড়িতে সবাই দৌড়ে টাকা আনতে। কারও বাড়ি মিঠানিতে কারো বাড়ি দূরে পাশের গ্রামে। টাকা নিয়ে স্কুলে ফিরে আসার পর তবে মিলে সবুজসাথীর সাইকেল। কিন্তু যে আনতে পারেনি তার ভাগ্যে সাইকেল জোটেনি। কারণ অনেকেই জানেন এই সাইকেল আবার আজই ফেরত চলে যাবে। তাই যেন তেন প্রকারে টাকা জোগারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পড়ুয়ারা। এরকম একটি ঘটনায় বিতর্ক দেখা দেয়। অভিভাবকরা জানান তাঁরা জানতে পেরেছেন সাইকেলগুলি স্কুলে আনা হয়েছে তার ভাড়া বাবাদ নাকি পড়ুয়া পিছু টাকা নেওয়া হয়েছে। জেলা স্কুল পরিদর্শক থেকে পরিচালন সমিতি সবাই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁদের দাবি প্রধান শিক্ষক এরকম কাজ করতে পারেন না। আইন বিরুদ্ধ তিনি কাজ করেছেন। এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ফান্ডে টাকা পড়ে থাকা সত্বেও চারবছর ধরে স্কুল পড়ুয়াদের পোশাক দেয়নি এই প্রধান শিক্ষক বৃন্দাবন পাল।



















