অফবিট – দক্ষিণবঙ্গের ব্যস্ততা আর শহুরে কোলাহল থেকে একটু দূরে, প্রকৃতির শান্ত কোলে লুকিয়ে আছে এক নিরিবিলি ঠিকানা—হেনরি আইল্যান্ড। যারা ভিড়ঠাসা সমুদ্র সৈকত এড়িয়ে নীরবতায় মোড়া প্রকৃতির সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে চান, তাঁদের কাছে এই দ্বীপ যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস। সুন্দরবনের সন্নিহিত এই অঞ্চলে নোনা হাওয়া, নদীর কলকল শব্দ আর ম্যানগ্রোভ অরণ্যের সবুজ ছায়া মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অন্যরকম প্রশান্ত পরিবেশ।
কলকাতা থেকে হেনরি আইল্যান্ড পৌঁছনোর সবচেয়ে সহজ উপায় সড়কপথ। বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে কাকদ্বীপ হয়ে পৌঁছতে হয় নামখানা। সেখান থেকে ফেরি বা লঞ্চে বকখালি, এরপর অটো বা টোটো ধরে যাওয়া যায় হেনরি আইল্যান্ডে। চাইলে বকখালি থেকে পায়ে হেঁটেও দ্বীপে পৌঁছনো সম্ভব। পুরো যাত্রাপথ মিলিয়ে সাধারণত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে।
থাকার জন্য হেনরি আইল্যান্ডেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের লজ। নিরিবিলি পরিবেশ, সবুজে ঘেরা অবস্থান ও পরিচ্ছন্ন থাকার ব্যবস্থা এই লজের মূল আকর্ষণ। এছাড়াও বকখালি এলাকায় রয়েছে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট, যেখানে থেকে দিনে দিনে হেনরি আইল্যান্ড ঘুরে আসা যায়।
এই এলাকার প্রধান আকর্ষণ ম্যানগ্রোভ বন। কাঠের বোর্ডওয়াক ধরে ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে উপভোগ করা যায় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। নদীর ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। কাছাকাছি ঘুরে দেখা যায় বকখালি সমুদ্র সৈকত, ফ্রেজারগঞ্জের উইন্ডমিল পার্ক ও মাছ ধরার নৌকার ঘাট। পাখিপ্রেমীদের কাছেও এই অঞ্চল অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
খাবারের দিক থেকেও হেনরি আইল্যান্ড ও তার আশপাশ হতাশ করে না। এই অঞ্চলে টাটকা সামুদ্রিক মাছ সহজেই পাওয়া যায়। ভেটকি, চিংড়ি, পার্শে, ভোলা—সবই স্বাদে অতুলনীয়। বকখালি ও নামখানার হোটেলগুলিতে ভাত, ডাল, মাছের ঝোল থেকে শুরু করে নানা ধরনের ভাজাভুজিও মেলে। সাদামাটা খাবার পছন্দ করেন এমন পর্যটকদের জন্যও রয়েছে পর্যাপ্ত বিকল্প।
হেনরি আইল্যান্ড ভ্রমণের আদর্শ সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। বর্ষাকালে প্রকৃতি আরও সবুজ হয়ে উঠলেও যাতায়াতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। তবে সপ্তাহান্তে দু’দিনের শান্ত ও নিরিবিলি ট্রিপের জন্য হেনরি আইল্যান্ড নিঃসন্দেহে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম সেরা গন্তব্য।




















