খেলা – অবাধ্য, উচ্ছৃঙ্খল— এমন বহু বিশেষণই একসময় জুড়ে দেওয়া হয়েছিল ঈশান কিষান-এর নামের সঙ্গে। কিন্তু তিনি হার মানেননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করে আবার জায়গা করে নিয়েছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে। আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মহারণে যেন নিজেকে নতুন করে চিনিয়ে দিলেন।
৪০ বলে ৭৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেললেন ঈশান। তাঁর এই ইনিংসই কার্যত পাকিস্তান বধের মারণাস্ত্র হয়ে ওঠে। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেও তাঁর কণ্ঠে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে বেশি ধ্বনিত হল দেশের কথা।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অভিষেকের উইকেট পড়লেও চাপে পড়েনি টিম ইন্ডিয়া। কারণ, ক্রিজে ছিলেন ঈশান। শাদাব খান, শাহিন আফ্রিদিদের মতো বোলারদের বিরুদ্ধে নির্ভীক ব্যাটিং করেন তিনি। মাত্র ২৭ বলেই তুলে নেন অর্ধশতরান। ভারতীয় সমর্থকরা যেন অপেক্ষা করছিলেন— পরের বলটা কোনদিকে উড়বে!
১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস শেষ হয় সাইম আয়ুবের বলে। কিন্তু ততক্ষণে ভারতের ইনিংস শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
ম্যাচ শেষে ঈশান বলেন, “এই ম্যাচটা সব সময় আলাদা। এই জয়টা শুধু আমাদের জন্য নয়, দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ওদের দলে কয়েকজন ভালো স্পিনার আছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জয় আমাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করবে, যা পরের ম্যাচগুলোতে কাজে লাগবে।”
তিনি প্রশংসা করেন সতীর্থ জশপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পাণ্ডিয়া-রও। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব-ও বলেন, “এই জয়টা ভারতের জন্য।”
সমালোচনা, বিতর্ক— সব কিছুর জবাব ব্যাট হাতেই দিলেন ঈশান। বড় মঞ্চে বড় ইনিংস— এভাবেই ফিরে আসার গল্প লেখেন প্রকৃত যোদ্ধারা।




















