বিদেশ – মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনার পারদ চড়াল ওয়াশিংটন। ভেনেজুয়েলার পর এবার সিরিয়ায় আকাশপথে ব্যাপক হামলা চালাল মার্কিন সেনা। ইসলামিক স্টেটের একের পর এক ঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত ৩৫টি নিশানায় গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, গত ডিসেম্বরে আইএসের হামলায় মার্কিন সেনা ও নাগরিকের মৃত্যুর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ‘ভয়ংকর প্রত্যাঘাত’-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সেটাই কি এবার বাস্তবে রূপ নিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমথি হকিন্স জানিয়েছেন, সিরিয়াজুড়ে আইএসের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, মার্কিন সেনা বা নাগরিকদের ক্ষতি করলে পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তেই হামলাকারীদের খুঁজে বের করে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তবে এই অভিযানে কতজন হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পেন্টাগন এখনও পর্যন্ত হামলার কৌশলগত বিস্তারিত জানাতে নারাজ। আইএসের তরফেও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল আগেই জানিয়েছিলেন, গত মাসে সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর একটি বৈঠক চলাকালীন আইএস জঙ্গিদের অতর্কিত হামলায় দুই মার্কিন সেনা জওয়ান এবং এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় আরও তিন জন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হন। পালটা গুলিতে হামলাকারী জঙ্গির মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়।
এই ঘটনার পরই ট্রাম্প প্রশাসন পাল্টা জবাবের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলেও জানা গেছে। গত ডিসেম্বরে মধ্য সিরিয়ার অন্তত ৭০টি স্থানে রকেট হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে আইএসের পরিকাঠামো ও অস্ত্র মজুত ছিল। সে সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আইএসের তথাকথিত ‘দুর্গ’ লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়েছে এবং সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল-শারার প্রতিও সমর্থনের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক এই বিমান হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি।




















