দিল্লি – সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনী বন্ড ব্যবস্থা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও রাজনৈতিক অনুদান ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজনৈতিক দলগুলির প্রাপ্ত মোট অনুদানের সিংহভাগই গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। মোট ৩৮১১ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৩১১২ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৮২ শতাংশই এই শাসক দলের তহবিলে গিয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর বিরোধী শিবিরে কেন্দ্রের শাসক দলের ভূমিকা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালে নির্বাচনী বন্ড ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তার পরও ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহে কোনও ভাটা পড়েনি। বরং সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের ১২১৮ কোটি টাকার তুলনায় ২০২৪-২৫ সালে অনুদান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮১১ কোটি টাকায়, যা প্রায় ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি।
নির্বাচন কমিশনের কাছে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা পড়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯টি নিবন্ধিত ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের মধ্যে ৯টি ট্রাস্টের অনুদান সংক্রান্ত রিপোর্টে বিপুল অঙ্কের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হয়েছে বিজেপি। কংগ্রেস পেয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা, আর অন্যান্য বিরোধী দলগুলো মিলিয়ে পেয়েছে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা।
সবচেয়ে বেশি অনুদান সংগ্রহকারী ট্রাস্ট হিসেবে উঠে এসেছে প্রুডেন্ট ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মোট ২৬৬৮ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২১৮০.০৭ কোটি টাকা গিয়েছে বিজেপির তহবিলে। জানা গেছে, বিভিন্ন নামী বহুজাতিক সংস্থার অনুদান এই ট্রাস্টের মাধ্যমেই এসেছে।
এর আগের অর্থবর্ষেও অনুদান সংগ্রহে শীর্ষে ছিল বিজেপি। ২০২৩-২৪ সালে দলটি মোট ৩৯৬৭.১৪ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল, যার মধ্যে ১৬৮৫.৬২ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৪৩ শতাংশ এসেছিল নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন যে, নির্বাচনী বন্ড বন্ধ হলেও কার্যত অন্য মাধ্যমে একই ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভয় দেখিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অনুদান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং বিরোধী দলগুলিকে আর্থিকভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, তবুও সরকারি তথ্যেই অনুদানের বিপুল বৈষম্য স্পষ্ট হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




















