রাজ্য – দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর অবশেষে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ও মহার্ঘ ত্রাণ (ডিআর) প্রদানের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে অর্থ দপ্তর। ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ধাপে ধাপে মেটানো হবে। প্রথম ধাপে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থ দপ্তর এ বিষয়ে মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কারণে আর্থিক চাপ থাকলেও কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রথম ধাপে জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ/ডিআর প্রদান করা হবে। এই হিসাব AICPI সূচক অনুযায়ী করা হবে। বকেয়া অর্থ দুটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হবে—প্রথম কিস্তি মার্চ ২০২৬ এবং দ্বিতীয় কিস্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত মনিটরিং কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে টাকার পরিমাণে সমন্বয় হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত বকেয়া কীভাবে দেওয়া হবে, তা পরবর্তীতে জানানো হবে।
কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে গ্রুপ এ, বি ও সি কর্মীদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তবে জমা হওয়ার পর ২৪ মাস পর্যন্ত এই টাকা তোলা যাবে না। অবসর, মৃত্যু বা পদত্যাগের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে অর্থ তোলা সম্ভব হবে। গ্রুপ ডি কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হবে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য এইচআরএমএস সিস্টেমে প্রযুক্তিগত আপডেট করা হচ্ছে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বকেয়া ডিএ/ডিআর সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। কলকাতার বাইরে পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি ডব্লিউবিআইএফএমএস-এর মাধ্যমে অর্থ প্রদান করবে। কলকাতায় এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (এ অ্যান্ড ই)। এই ব্যয় ধরা হবে মেজর হেড ২০৭১-এর অধীনে। মৃত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে মনোনীত ব্যক্তি বা আইনি উত্তরাধিকারীরা বকেয়া পাওয়ার অধিকারী হবেন।
সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, পৌরসভা ও অন্যান্য স্ট্যাচুটরি বডির কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বেতন ও পেনশনের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ দপ্তরের অনুমোদনের পর আলাদা করে বকেয়া প্রদানের পদ্ধতি জানানো হবে।
২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে যাঁরা চাকরি ছেড়েছেন, তাঁরাও বকেয়া পাওয়ার যোগ্য। তাঁরা শেষ হেড অফ অফিসের কাছে আবেদন করতে পারবেন। যাঁরা ওই সময়ে এইচআরএমএস-এর মাধ্যমে বেতন পাননি, তাঁরাও আবেদন করে বকেয়া দাবি করতে পারবেন।
রাজ্য সরকারের মতে, আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই ধাপে ধাপে বকেয়া মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।




















