দেশ – সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট নিয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ছে দেশে। হাতে হাতে মোবাইল থাকায় দ্রুত সেই বার্তা গোটা দেশেই নয়, ভিন দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই এর ফলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিজনক পোস্ট ডিলিট করতে নতুন পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিতর্কিত এবং কিছু ক্ষেত্রে দেশবিরোধী পোস্ট ডিলিট করার ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রককে দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে আরও কয়েকটি মন্ত্রককে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।
বর্তমানে আপত্তিকর পোস্ট ডিলিট করার ক্ষমতা রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের হাতে। কিন্তু এতে দুটি সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। কোনো পোস্ট ডিলিট করার অনুরোধ এলে তা স্ক্রিনিং কমিটির মাধ্যমে যাচাই করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছ থেকে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়। এর ফলে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে। সেই সময়ের মধ্যেই বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে সামাজিক অশান্তি বাড়তে পারে। পাশাপাশি, বহু ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক পোস্ট ডিলিটের বিষয়ে সহমত হয় না।
কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্রের দাবি, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়, বহু পোস্ট দেশের পক্ষে অস্বস্তিকর ছিল। কিছু পোস্ট সেনার মনোবলকেও প্রভাবিত করেছে বলে মত। এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সরকার।
ভারতের সোশ্যাল মিডিয়া মোটের উপর মুক্ত। তবে ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬(এ) ধারায় কেন্দ্রীয় সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে আপত্তিজনক পোস্ট সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ডিলিট করতে বলা যায়। বর্তমানে এই ক্ষমতা রয়েছে শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের হাতে। অন্যদিকে, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার ক্ষমতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রয়েছে। রাজ্যগুলিতেও নির্দিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী জেলাশাসক বা তার প্রতিনিধি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারেন। পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশের আইটি সেল ও গোয়েন্দা শাখাগুলিরও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে পোস্ট অপসারণের নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এই ক্ষমতা নির্দিষ্ট কিছু মন্ত্রকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আপাতত স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রককে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রশাসনিক মহল।




















