
নিজস্ব সংবাদদাতা,বীরভূম,৩১ শে আগস্ট : বীরভূমের ইলামবাজারের ঘুরিষা গ্রামের বাসিন্দা অপর্ণা চক্রবর্তীর স্বামী সুকুমার চক্রবর্তীর পেটে রয়েছে টিউমার। অসহ্য যন্ত্রণায় রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না তিনি। চিকিৎসার জন্য এলাকার নানান ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু বারবার ডাক্তার দেখানো এবং ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও কোনো সুরাহা মেলেনি। স্থানীয়রা পরামর্শ দেন কলকাতার কোন নামি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য। আর স্থানীয়দের কথা মতো ছুটে গিয়েছিলেন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে বেড খালি না থাকায় ভর্তি করাতে পারেননি স্বামীকে।
এরপর অপর্ণা চক্রবর্তী ‘দিদিকে বলো’ ফোন নাম্বারে ফোন করেন। সেখান থেকে বলা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে যেতে। কিন্তু এঘর ওঘর ঘুরেও মিললো না একটাও বেড, হলো না ভর্তি। অথচ মুখ্যমন্ত্রীই দিনকয়েক আগে বলেছিলেন, বেড না থাকার কারন দেখিয়ে রোগীদের এদিক-ওদিক ঘোরান যাবে না।
অপর্ণা দেবীর অভিযোগ, “দিদিকে বলো ফোন নাম্বারের বারবার ফোন করার পর একদিন ফোন আসে সোমবার নতুন করে এসএসকেএম হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। সেখানে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর পর আবার দিদিকে বলো নাম্বারে ফোন করতে বলা হয়। উনাদের কথা মত ডাক্তার দেখিয়ে আবার ফোন করি ওই নাম্বারে। তারপর বলা হয় ৯ নাম্বার ঘরে অরিন্দম নামে একজনের সাথে যোগাযোগ করতে। অরিন্দম বাবু বলেন, আজ কোন সিট ফাঁকা নেই তাই মঙ্গলবার আবার নতুন করে টিকিট করে ডাক্তার দেখিয়ে তার কাছে যাওয়ার জন্য। উনাদের কথামতো মঙ্গলবার নতুন করে দেখিয়েও কোন কাজ হয়নি। তখন কিছু ওষুধ দিয়ে বলা হয় পরে আসতে। তারপর আবার ওই নাম্বারে ফোন করি, ফোন করলে বলা হয় মল্লিকা ম্যাডামের কাছে যেতে। কিন্তু মল্লিকা ম্যাডাম আবার পাঠান অরিন্দম বাবুর কাছে। অরিন্দম বাবুর কাছে গেলে তিনি বলেন, ‘আপনারা এখনো বাড়ি যাননি, যার কাছে নিয়ে এসেছেন তার কাছে যান, আমি ভর্তি করতে পারবোনা।’ তারপর উনি কাগজপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেন। আমরা যখন বলি, ঠিক আছে আমরা যা করার করব, তখন তিনি কাগজপত্র নিয়ে বলেন, ‘আমি অভিষেক ব্যানার্জিকে ফোন করছি।’ অভিষেক ব্যানার্জিকে ফোন করে আমার সম্বন্ধে খারাপ কথাও বলে। এরপর আবার সামনের মঙ্গলবারে জন্য সময় দেওয়া হয়।”
বারবার এভাবে ঘুরেও এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায় অবশেষে হতাশা নিয়ে ফিরে আসতে হয় অপর্ণা চক্রবর্তীকে।


















