হুগলি – স্বামীকে কেড়ে নিয়েছে মারণ ক্যানসার। কয়েক মাস পরে দুর্ঘটনায় প্রাণ চলে যায় মেয়ে সুতন্দ্রারও। পরপর দু’টি ভয়াবহ ক্ষতির পর এবার শেষ সম্বলটুকুও হারাতে চলেছেন চন্দননগরের তনুশ্রী চট্টোপাধ্যায়—ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ করতে না পারায় বাজেয়াপ্ত হচ্ছে তাঁদের বাড়ি। বৃদ্ধ শাশুড়ি ও মাকে নিয়ে তাঁর আর কোনও আশ্রয় নেই। বাধ্য হয়ে বাপের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
২০২৩ সালে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে ৫৭ লক্ষ টাকার ঋণ নেন তনুশ্রীদেবীর স্বামী। তার পরই ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার খরচ সামলাতেই দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবার। ঠিকাদারি ব্যবসায় লোকসান, স্বামীর চিকিৎসা—সব মিলিয়ে সংসার টালমাটাল হয়ে ওঠে। নিজের সামর্থ্যমতো হাল ধরেছিলেন মেয়ে সুতন্দ্রা। কিন্তু পানাগড়ে এক মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে দেয়। অভিযোগ, ইভটিজারদের হাত থেকে বাঁচতে গাড়ি দ্রুতগতিতে চালানোয় নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং প্রাণ হারান সুতন্দ্রা।
স্বামী ও মেয়েকে হারানোর শোক সামলে তনুশ্রী শাশুড়ি কল্পনা চট্টোপাধ্যায় ও মা কল্যাণী রায়কে নিয়ে চন্দননগরের নাড়ুয়ায় থাকছিলেন। কিন্তু ঋণ শোধ না হওয়ায় ব্যাঙ্ক সেই বাড়ির দখল নেয়। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে দাবি তনুশ্রীদেবীর।
তাঁর কথায়, “বাড়ির জন্য ৩০ লক্ষ ও দোকানের জন্য ১৭ লক্ষ ঋণ নিয়েছিলেন স্বামী। দোকানের জন্য বিমা করা ছিল, তার জন্য ৯০ হাজারের বেশি জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও বিমার টাকা পাইনি। ব্যাঙ্ককে বলেছিলাম, ৩০ লক্ষ দিতে পারব। দোকানটা নিয়ে নিক। কিন্তু তারা শুনল না। মেয়ে বেঁচে থাকলে হয়তো এমন দিন দেখতে হতো না। আমি গৃহবধূ—এত টাকা পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তাই বাড়ি ছেড়ে দিচ্ছি।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, পানাগড়ে জাতীয় সড়কে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বছর সাতাশের সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়। নৃত্যশিল্পী ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্ণধার সুতন্দ্রা সেদিন গভীর রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, কয়েকজন মাতাল যুবক তাঁর গাড়িকে ধাওয়া করে কটূক্তি করে এবং ইভটিজিং করে। তাঁদের হাত থেকে বাঁচতে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোয় ঘটে দুর্ঘটনা। যদিও ১৬ ঘণ্টা পরে পুলিশ ইভটিজিংয়ের তত্ত্ব খারিজ করে দেয়। সেই সুতন্দ্রার পরিবার আজ হারাতে বসেছে শেষ আশ্রয়টুকু।




















