দেশ -;হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কয়েকদিন কেটে গেলেও এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে বিদেশ মন্ত্রক। আরব দুনিয়ায় চলমান উত্তেজনার আবহে এই ইস্যু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশ আলোচনা করছে, তবে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সরাসরি কোনও কথা হয়নি। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দিল্লি অভ্যন্তরীণভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে। তবে এ মুহূর্তে কোনও নির্দিষ্ট অবস্থান ঘোষণা করা হয়নি।
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিকে ‘নিরাপদ ও উন্মুক্ত’ রাখতে বিশ্বের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাধা তৈরি হচ্ছে, যার ফলে বহু দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই কারণে চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশকে ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানান তিনি।
তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানের পরও এখনও পর্যন্ত কোনও দেশ প্রকাশ্যে কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ভারতও এ বিষয়ে সরাসরি কোনও অবস্থান নেয়নি এবং কূটনৈতিকভাবে সতর্ক মনোভাব বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ট্রাম্প তাঁর বার্তায় আরও দাবি করেন, আমেরিকা ইতিমধ্যেই ইরানের সামরিক শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে দুর্বল করেছে। তবে তবুও ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা মাইন হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে সতর্ক করেন তিনি। সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতেই মিত্র দেশগুলিকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজন হলে সমুদ্রপথ থেকে ইরানি জাহাজগুলির ওপর মার্কিন বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এই পথ ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজার ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান আপাতত পর্যবেক্ষণমূলক ও সতর্ক, এবং দিল্লি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।




















