দেশ – মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের (Middle East tension) জেরে Strait of Hormuz-এ চলাচলে বিধিনিষেধ তৈরি হওয়ায় বহু জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এর মধ্যে একটি এলপিজি বোঝাই ভারতীয় ট্যাঙ্কার মাঝসমুদ্রে আটকে রয়েছে। জাহাজটিতে প্রায় ৩৪ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন, যাঁরা বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের চলাচল দেখা যাচ্ছে বলে তাঁদের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, জাহাজটি কুয়েতের Mina Al Ahmadi Port থেকে ভারতের গুজরাটের Deendayal Port (কান্দলা) বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে সমুদ্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি থাকায় এটি আর এগোতে পারেনি। বর্তমানে ট্যাঙ্কারটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির Mina Saqr Port-এর কাছাকাছি নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে।
জাহাজে থাকা এলপিজির পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা দিয়ে প্রায় ৩৬ লক্ষ গৃহস্থের গ্যাস সিলিন্ডার ভরা সম্ভব বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে নিরাপত্তা ও সরবরাহ—দু’দিকেই জটিলতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা Great Eastern Shipping Company এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি বিষয়টি ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ক্যাপ্টেন বীরেন্দ্র বিশ্বকর্মা জাহাজ থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছেন, তাঁদের মাথার উপর দিয়ে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উড়ছে এবং চারদিকে সাইরেন বাজছে। তাঁরা ভারতীয় নৌবাহিনীর নিরাপত্তা সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছেন, যাতে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন। তাঁর পরিবারও গভীর উদ্বেগে রয়েছে; ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হওয়ায় নিয়মিত যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না।
জাহাজে বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হলে সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা। এখন আন্তর্জাতিক এই উত্তেজনার মধ্যে নাবিকদের নিরাপত্তা ও দ্রুত প্রত্যাবর্তনই প্রধান অগ্রাধিকার বলে মনে করা হচ্ছে।




















