হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের, স্বস্তি পেল ভারত

হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের, স্বস্তি পেল ভারত

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দেশ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইরান। চিন ও রাশিয়া ছাড়া অন্য কোনও দেশের জাহাজকে সেই পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। এমনকি অন্য দেশের তেলবাহী জাহাজ ওই পথে গেলে তা ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয় এবং বহু দেশই জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছিল ভারতও। তবে এবার সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমল। ইরান হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের মাঝেই এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবে সামনে এসেছে।
সূত্রের খবর, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে তেহরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদ পরিবহণ করা হয়। তাই এই পথ খোলা থাকা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে প্রত্যাহারের পর ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘পুষ্পক’ এবং ‘পরিমল’ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ভারতের জন্য এই পথ খুলে দেওয়া হলেও এখনও আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইজরায়েলের জাহাজগুলির জন্য এই সমুদ্রপথ বন্ধই রেখেছে ইরান।
উল্লেখ্য, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এস. জয়শঙ্কর এবং আব্বাস আরাঘচির মধ্যে এটি তৃতীয় দফার আলোচনা। এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয় বাড়াতেও উদ্যোগী হয়েছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জিন-নোয়েল বারোর সঙ্গেও এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এই কূটনৈতিক আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ সচল রাখা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যাতে কোনও বড় ব্যাঘাত না ঘটে তা নিশ্চিত করা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top