হরিয়ানার স্কুলে প্রার্থনাসভায় বাধ্যতামূলক শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠ, পর্ষদের নির্দেশে বিতর্কের ঝড়

হরিয়ানার স্কুলে প্রার্থনাসভায় বাধ্যতামূলক শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠ, পর্ষদের নির্দেশে বিতর্কের ঝড়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



দিল্লি – সরকারি এবং বেসরকারি—পর্ষদের অধীনে থাকা সমস্ত স্কুলে এবার থেকে সকালবেলার প্রার্থনা সভায় নিয়ম করে শ্রীমদ্ভগবদগীতার শ্লোক পাঠ করতে হবে। এমনই নির্দেশ দিল হরিয়ানা স্কুল শিক্ষা পর্ষদ (HSEB)। পর্ষদের এই সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া।

এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে পর্ষদের চেয়ারম্যান পবন কুমার জানান, গীতার জ্ঞান ও শ্লোকপাঠ ছাত্রছাত্রীদের নৈতিক, মানসিক এবং সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক হবে। তাঁর কথায়, “শিশুরা গীতার ভাবনা ও শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের জীবনে তা প্রয়োগ করুক, এটাই আমাদের লক্ষ্য। এই জ্ঞান শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক উন্নয়নেও সাহায্য করবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের আধ্যাত্মিক জ্ঞান যুগ যুগ ধরে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এক সময় সারা পৃথিবী থেকেই মানুষ ভারতে আসতেন এই জ্ঞান আহরণের জন্য। এই পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিশ্বগুরু’ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

তবে এই নির্দেশকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার পরিবর্তে পর্ষদের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, উদ্যোগটি মূলত দর্শন ও শিক্ষামূল্যকে কেন্দ্র করেই নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এই পাঠ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, মনঃসংযোগ ও দায়িত্ববোধের মতো গুণাবলি গড়ে তুলবে।

পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই স্কুলগুলিতে গীতাপাঠ শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই সমাজের বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নৈতিক শিক্ষার দিক থেকে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থায় শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থকে প্রাধান্য দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?

এই বিতর্কের মধ্যেই হরিয়ানা স্কুল শিক্ষা পর্ষদ তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। এখন দেখার, এই পদক্ষেপ শিক্ষাক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলে এবং তা আদৌ সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে ওঠে কি না।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top