বিনোদন – ‘দ্য ওয়্যার’ ও ‘ইট: চ্যাপ্টার টু’-খ্যাত অভিনেতা জেমস র্যানসোনের অকালমৃত্যুতে স্তব্ধ বিনোদন জগৎ। জানা গিয়েছে, শুক্রবার ১৯ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অভিনেতার দেহ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেডিকেল এক্সামিনার দপ্তর এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
সাম্প্রতিক কালে একাধিক জনপ্রিয় টিভি শোয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন জেমস র্যানসোন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘সিল টিম’, ‘পোকার ফেস’, ‘৫০ স্টেটস অফ ফ্রাইট’ এবং ‘দ্য ফার্স্ট’। বড় পর্দায়ও তিনি নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন। পরিচালক শন বেকারের ‘ব্রেকআউট’ ও ‘ট্যানজারিন’ ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জেমস র্যানসোন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে। তদন্ত শেষ হলেও কোনও অপরাধমূলক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অভিনেতার স্ত্রী জেমি ম্যাকফির একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিনেতার মৃত্যুর কয়েকদিন আগে করা সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তাঁর স্বামী। সেই পোস্ট ভাইরাল হতেই র্যানসোনের মানসিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নেশার সঙ্গে লড়াই করছিলেন জেমস র্যানসোন। মাত্র ২৭ বছর বয়স থেকেই হেরোইনের আসক্তির শিকার হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে উঠলেও আবারও মানসিক অবসাদ তাঁকে ঘিরে ধরেছিল বলে জানা যাচ্ছে। এই মানসিক চাপই কি শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এর আগে ২০২১ সালে একটি সাক্ষাৎকারে র্যানসোন জানিয়েছিলেন, শৈশবে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে তাঁর এক গণিত শিক্ষক তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ২০২০ সালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাল্টিমোর কাউন্টি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হলেও তদন্তের পর কর্তৃপক্ষ অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। কেন অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়নি, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
জেমস র্যানসোন তাঁর স্ত্রী জেমি ম্যাকফি এবং দুই সন্তানকে রেখে গিয়েছেন। তাঁর অকালপ্রয়াণে সহকর্মী, অনুরাগী ও গোটা হলিউডে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।




















