কোচবিহার – ভোটের আবহ ঘনিয়ে আসতেই উত্তরবঙ্গে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। কোচবিহারে বিজেপির সভা ঘিরে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তাতে শেষ পর্যন্ত ইতি টানল আদালত। পুলিশের অনুমতি না মিললেও কলকাতা হাইকোর্ট বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর ‘পরিবর্তন’ সভা করার ছাড়পত্র দিয়েছে। ফলে আগামী ২ জানুয়ারি কোচবিহারের পুরাতন পোস্ট অফিসপাড়ার মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসনিক অনুমতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল। পরিস্থিতির জেরে শেষ পর্যন্ত সভার আয়োজকেরা আদালতের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টের নির্দেশে সভার আয়োজন নিশ্চিত হওয়ায় দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার কোচবিহারে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন। সেখানে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণেই বিজেপির কর্মসূচিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
অভিজিৎ বর্মনের দাবি, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও মেখলিগঞ্জে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সভার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেই সময়েও আদালতের নির্দেশেই সভা করতে পেরেছিল বিজেপি।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, আদালতের সিদ্ধান্তই প্রমাণ করছে যে আইনি পথেই গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সম্ভব। যদিও বিজেপির এই অভিযোগ প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কোচবিহারে মিঠুন চক্রবর্তীর সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলার রাজনৈতিক উত্তাপ আগামী দিনে আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




















