হাওড়া – শনিবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে হাওড়া পুরসভার সংশোধনী বিল। এই বিল অনুযায়ী হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বর্তমান ৫০ থেকে বেড়ে ৬৬ করা হবে। বিলটি ঘিরে শুক্রবার হাওড়ায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায়। তিনি জানান, এই সংশোধনী বিল নিয়ে বিধানসভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করতেই হাওড়া পুরসভায় ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুরভোট প্রসঙ্গে পুলক রায় স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরেই হাওড়া পুরসভার ভোট কবে হবে, তা রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের পর পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনার কথাই তুলে ধরেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, হাওড়ায় শেষবার পুরভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৫ সালে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে বালিকে যুক্ত করা হয়। সেই সময় বালি পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ড ভেঙে ১৬টি নতুন ওয়ার্ড তৈরি করে হাওড়া পুরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ২০২১ সালে রাজ্য সরকারের তরফে বালি ও হাওড়াকে পৃথক করার জন্য সংশোধনী বিল আনা হলেও তা নিয়ে নবান্ন ও রাজভবনের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। তখন রাজ্যপালের দায়িত্বে ছিলেন জগদীপ ধনকড়। এই জটিলতার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া পুরভোট আটকে রয়েছে।
এই প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা কাটাতেই শনিবার ফের হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পেশ করা হচ্ছে। বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর বিলটি রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। রাজভবনের তরফে সবুজ সংকেত মিললে পুরভোট আয়োজনের পথে আর কোনও আইনি বাধা থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে শনিবার বিধানসভায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আসতে চলেছে। মুর্শিদাবাদ ইউনিভার্সিটির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পেশ করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে রাখা হবে ‘মুর্শিদাবাদ রাজা কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ্যালয়’। স্থানীয় মানুষের আবেগ ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।



















