দিল্লি – হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় কাঁপছে দেশের একাধিক রাজ্য। চলতি শীতের মরশুমে শীতের দাপট যেন আরও বেশি। বহু জায়গায় গত কয়েক দশকের মধ্যে এত কম তাপমাত্রা আগে দেখা যায়নি। শীত ও গরম— দুই চরম অবস্থার জন্যই পরিচিত রাজধানী দিল্লিও এবার তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে। তাপমাত্রা দ্রুত নামায় শহরজুড়ে শৈত্যপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের (IMD) তথ্য অনুযায়ী, রবিবার রাতে দিল্লির আয়ানগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি বছরের সর্বনিম্ন। রাজধানীর একাধিক এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রির কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। ফলে রাত ও ভোরের দিকে তীব্র ঠান্ডায় কার্যত জবুথবু হয়ে পড়ছেন বাসিন্দারা।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, স্বাভাবিকের তুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যদি ৪.৫ থেকে ৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকে, তবে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। সেই মানদণ্ড অনুযায়ী দিল্লির বহু জায়গাতেই এখন শৈত্যপ্রবাহ চলছে। সোমবার সকালে ঘাউলা কুয়ান, সরাই কালে খানের মতো এলাকাগুলি হালকা কুয়াশায় ঢাকা পড়ে। ঠান্ডার সঙ্গে বইছে তীব্র হাওয়া। গড় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কোথাও কোথাও পাতলা ধোঁয়ার স্তরের কারণে দৃশ্যমানতাও কিছুটা কমে যায়। শনিবার দিল্লিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সঙ্গে কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টিও হয়েছিল। তার আগের দিন শুক্রবারও রাতের তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রির ঘরে নেমেছিল।
ঠান্ডার দাপটের পাশাপাশি দিল্লিতে মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে বায়ু দূষণ। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (CPCB) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৭টায় দিল্লির বায়ুর গুণগত মানের সূচক বা AQI রেকর্ড করা হয়েছে ২৯৩, যা ‘খারাপ’ শ্রেণির মধ্যে পড়ে। শনিবার এই মান ছিল ২৯১। দূষণের মাত্রা বেশি থাকায় ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট— দুইয়ের সমস্যাই বাড়ছে শহরে।
শুধু দিল্লি নয়, তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে উত্তরপ্রদেশও। রাজ্যের রাজধানী লখনউতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৭ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। মীরাটে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং বাহরাইচে রেকর্ড করা হয়েছে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজ্যের একাধিক জেলাতেই তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন উত্তর ভারতে শীতের দাপট এমনই বজায় থাকতে পারে।



















