বিনোদন – আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছবিতে দিব্যজ্যোতি দত্তকে দেখে চমকে উঠছেন অনুরাগীরা। হাড় গোনা যায় এমন শীর্ণকায় শরীর, ন্যাড়া মাথা, চোখে চশমা—মিরর সেলফিতে ধরা পড়েছে অভিনেতার সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া রূপ। পাশাপাশি আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে তাঁর আগের পেশীবহুল, সুঠাম চেহারা। এই তীব্র বৈপরীত্যই নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে দিব্যজ্যোতির রূপান্তর।
সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে শ্রীচৈতন্যদেবের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ ভেঙে গড়েছেন দিব্যজ্যোতি। এই ছবিতে তাঁকে যে শীর্ণকায় রূপে দেখা গিয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ দিনের কঠোর প্রস্তুতি ও আত্মসংযম। অভিনেতার এই অভিনয় ইতিমধ্যেই ঘরে ঘরে প্রশংসিত হয়েছে।
একাধিক সাক্ষাৎকারে দিব্যজ্যোতি জানিয়েছেন, এই চরিত্রের জন্য তাঁকে অত্যন্ত কঠোর ডায়েট মেনে চলতে হয়েছিল। পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় নিজেও জানিয়েছিলেন, দিব্যজ্যোতির চোখের গভীরতাই তাঁকে শ্রীচৈতন্যদেবের চরিত্রে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ। তবে চরিত্রের ছাঁচে নিজেকে মানিয়ে নিতে গিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় অভিনেতার অতিরিক্ত ওজন। সেই চ্যালেঞ্জ সানন্দে গ্রহণ করেন দিব্যজ্যোতি।
ছবির প্রচার চলাকালীন অভিনেতা জানান, মাত্র তিন মাসে তিনি প্রায় ২৭ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা দুটি ছবিতে সেই রূপান্তরের প্রমাণ মিলেছে। একটি ছবিতে তাঁর পুরনো পেশীবহুল শরীর, অন্যটিতে হাড়সর্বস্ব শীর্ণকায় রূপ। এই দুটি ছবি শেয়ার করে দিব্যজ্যোতি লেখেন, “একদিন আয়নার সামনে আমি ছিলাম শুধু শরীর, আজ আয়নার ভিতরে খুঁজি শ্রীচৈতন্য। ২৭ কেজি ওজন শুধু নয়—আমি ঝরিয়েছিল ২৭ স্তর ‘আমি কে’। জিমের লোহার ঘামে গড়া শরীর আর হৃদয়ের ভিতরে জন্ম নেওয়া চৈতন্যের বৈরাগ্য—এই দুইয়ের মাঝেই আমার এই রূপান্তর।”
দিব্যজ্যোতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সময়ে তিনি পুরোপুরি শ্রীচৈতন্যদেবের ভাবনায় ডুবে ছিলেন। শ্যুটিং চলাকালীন তিনি প্রায় শুধুমাত্র তরমুজ খেয়েই দিন কাটাতেন বলেও জানান অভিনেতা। শুধু শরীর নয়, মানসিকভাবেও নিজেকে শ্রীচৈতন্যদেবের মতো করে গড়ে তুলেছিলেন তিনি। শ্যুটিংয়ের আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়েও সেই ভাবাবেশ বজায় ছিল। অভিনেতার শেয়ার করা এই ছবিগুলি স্পষ্ট করে দেয়, একটি চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে তিনি কতটা পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ করেছেন।




















