
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান, ২৮ শে জানুয়ারি : পশ্চিম বর্ধমানের হীরাপুরের কালাঝরিয়ায় হাতির হানায় মৃত্যু হল এক পঁয়ষট্টি বছরের বৃদ্ধার। মঙ্গলবার ভোরে এই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা পুলিশ ও বন দফতরে খবর দিয়েছেন।
স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে হীরাপুরের কালাঝরিয়ায় মেয়ে শুকু বাউড়ির সঙ্গেই থাকতেন বছর পঁয়ষট্টির অলকা বাউড়ি। মঙ্গলবার ভোরে অলকা, শুকু ও আরও এক জন প্রাতঃকৃত্য করার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে পাশের ঝোপে যান। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, বাড়িতে বাড়িতে শৌচালয় তৈরি হলেও তা ব্যবহার করার অভ্যাস নেই গ্রামের লোকজনের। সেই কারণেই ওই তিনজন মহিলা ভোর বেলায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন প্রাতঃকৃত্যের জন্য।
সকালে ঘন কুয়াশা থাকায় সামান্য দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছিল না। নিকটবর্তী গ্যাস প্ল্যান্টের আড়াল থেকে আচমকা একটি হাতি বেরিয়ে একেবারে সামনে চলে আসে। হঠাৎ হাতি দেখে তাঁরা তিনজনেই ভয় পেয়ে যান। শুকু ও অন্য একজন পালিয়ে যান কিন্তু বয়সের কারণে তাড়াতাড়ি পালাতে পারেননি অলকা। হাতিটিও সামনে মানুষ দেখে ভয়ই পেয়ে যায়। ওই বৃদ্ধাকে পেয়ে শুঁড়ে তুলে আছডে় মাটিতে ফেলে। তারপরে পায়ে করে পিষে মারে। শুকু ও অন্য এক মহিলা আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন। তাঁদের চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরা বৃদ্ধার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ খবর দেন। পুলিশ দেহটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
বাঁকুড়ার বন থেকে এই এলাকায় মাঝে মধ্যে হাতি আসে বটে তবে দামোদরের তীর ঘেঁষেই তারা থাকে। হাতি ঢোকার খবর পেলেই বন দফতর তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করে। এক কথায়, এই গ্রামে আগে কোনও দিন হাতি নিয়ে তেমন কোনও সমস্যা হয়নি, হাতির হানায় কারও মৃত্যুও হয়নি।
বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়ার জঙ্গল থেকে দামোদর নদী পেরিয়ে একটা দাঁতাল হাতি চলে এসেছে দামোদর নদ সংলগ্ন কালাঝরিয়া গ্রামে। সেই হাতির হামলাতেই এই বিপত্তি।
এলাকার লোকজন এখন তৎপর হয়ে উঠেছেন। বন দফতরের লোকজনকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা নিজেরাও গ্রাম পাহারার ব্যবস্থা করেছেন যাতে হাতির হামলায় ঘরবাড়ি নষ্ট না হয়, নতুন করে কারও প্রাণহানি না হয়। হাতির আতঙ্কে বাড়ি থেকে শিশুদের বার হতে দিচ্ছেন না কেউই।



















