খেলা – শুক্রবার ভারতীয় ক্রিকেটে যুক্ত হল আরও এক স্বর্ণালি অধ্যায়। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে আয়োজিত ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ভারত। আয়ুষ মাত্রের নেতৃত্বে গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর ফাইনালেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে দেয় ভারতীয় দল।
এই ঐতিহাসিক জয়ের প্রধান নায়ক বৈভব সূর্যবংশী। ফাইনালে ৮০ বলে দুরন্ত ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি। তাঁর ব্যাটিংয়েই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় এবং ইংল্যান্ডের সামনে পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য দাঁড় করায় ভারত।
তবে ট্রফি জয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেই সামনে আসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আইসিসির নীতি অনুযায়ী, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে একটি উন্নয়নমূলক টুর্নামেন্ট হিসেবে ধরা হয়। তাই এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কোনও দল বা খেলোয়াড়কে আইসিসির তরফে সরাসরি আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয় না। আইসিসির বক্তব্য, সদস্য দেশগুলিকে আগেই ক্রিকেট উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এর অর্থ এই নয় যে খেলোয়াড়রা কোনও স্বীকৃতি বা সম্মান পাবেন না। অতীতেও দেখা গিয়েছে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড নিজেদের উদ্যোগে খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের আর্থিক পুরস্কারে সম্মানিত করেছে। ২০২২ সালে যশ ধুলের নেতৃত্বাধীন বিশ্বজয়ী দল খেলোয়াড় প্রতি ৪০ লক্ষ টাকা পেয়েছিল। পাশাপাশি ২০২৩ ও ২০২৫ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা বিশ্বকাপজয়ী দলগুলিকে মোট ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।
ব্যক্তিগত স্তরেও বড় স্বীকৃতি পেয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। ফাইনালে বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদে তিনি প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ হন এবং গোটা টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য পান প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার। ফাইনালে ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কা হাঁকানোর পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে তিনি করেন মোট ৪৩৯ রান। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও খেলোয়াড় একই সঙ্গে ফাইনাল ও টুর্নামেন্টের সেরা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন, যা নিঃসন্দেহে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।




















