খেলা – আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতে ব্যাটে-বলে সম্পূর্ণ আধিপত্য দেখাল টিম ইন্ডিয়া। হার্দিক পান্ডিয়ার ঝড়ো ইনিংস এবং তিলক বর্মার সংযত কিন্তু কার্যকর ব্যাটিংয়ের দৌলতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩০ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩–১ ব্যবধানে জিতে নিল ভারত।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেয় ভারত। এক সময় স্কোর দাঁড়ায় ১১৫ রানে ৩ উইকেট। সেখান থেকেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেন তিলক বর্মা ও হার্দিক পান্ডিয়া। চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৪৪ বলে ১০৫ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়ে কার্যত ম্যাচ বের করে দেন দু’জনেই।
তিলক বর্মা খেলেন একেবারে পরিণত ইনিংস। ৪২ বলে তাঁর ৭৩ রানের ইনিংসে ছিল সংযম ও আক্রমণের সুন্দর মিশেল। অন্যদিকে হার্দিক পান্ডিয়া ছিলেন পুরোপুরি আগ্রাসী মেজাজে। মাত্র ২৫ বলে ৬৩ রান করেন তিনি। বিশেষভাবে নজর কাড়ে তাঁর অর্ধশতরান—মাত্র ১৬ বলে, যা ভারতীয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম, যুবরাজ সিংয়ের পরেই।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ২৩১ রান ৫ উইকেটে। এই বিশাল লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে কার্যত পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
জবাবে প্রোটিয়ারা শুরুটা ভাল করলেও মাঝের ওভারেই ছন্দ হারায়। কুইন্টন ডি ককের ব্যাট কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও বরুণ চক্রবর্তীর ঘূর্ণির সামনে দাঁড়াতে পারেননি বাকিরা। চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বরুণ। বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন হার্দিক পান্ডিয়াও।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস থামে ২০১ রান ৮ উইকেটে। ফলে ৩০ রানের জয় নিশ্চিত করে সিরিজ দখল করে নেয় ভারত। টেস্টে ধাক্কার পর সীমিত ওভারে এই প্রত্যাবর্তন ভারতীয় শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাল বলেই মনে করছেন ক্রিকেট মহল।
এবার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের আগে এই জয় নিঃসন্দেহে টিম ইন্ডিয়ার জন্য বড় প্রেরণা হয়ে রইল।




















