
নিজস্ব সংবাদদাতা,বসিরহাট ,৮ ই জুন: বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ থানার বরুনহাটের ঘটনা। আক্রান্তের শিকার আব্বাস গাজী। ২০১৩ সালে এইচ.আই.ভি. পজিটিভ সংক্রমণ তার শরীরে পাওয়া যায়। বারাসাতের হাসপাতালে চিকিৎসাও হয়, সেইমতো ঔষধও চলছিল। বাড়িতে যাতায়াতও করছিলেন। গত কয়েকদিন ধরে গ্রামবাসীরা জানতে পারে এইচ.আই.ভি. আক্রান্ত আব্বাস গাজী। সেখান থেকে একদিকে তার পরিবারের উপরে কুনজর অন্যদিকে ঘেন্না, সামাজিক বয়কট ও অবশেষে মারধর শুরু হয়। গভীর রাতে তার বাড়িতে বেশ কয়েকজন জড়ো হয়ে তাকে মারধর করে, এমনকি গ্রাম ছাড়ার কথা বলে হুমকি দেয়। এই ঘটনা জানাজানি হতেই শুক্রবার টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে আক্রান্ত রোগী আব্বাসকে নিয়ে আসেন সোশ্যাল ওয়ার্কার সুব্রত বিশ্বাস। এনে তাকে চিকিৎসা শুরু হয়। পুরো ঘটনা বসিরহাটের মহাকুমার শাসক ও হাসনাবাদ থানার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে গ্রাম ছাড়া ও সামাজিক বয়কটের ডাক দিয়েছে এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে এক বিংশ শতাব্দীতেও কুসংস্কার থেকে মানুষ আজও বেরিয়ে আসতে পারিনি। তার জ্বলন্ত উদাহরণ হাসনাবাদের বরুণহাট গ্রাম। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী সুব্রত বিশ্বাস বলেন, মানুষ আজও অন্ধকারে আচ্ছন্ন। যার রোগ ধরা পড়েছে তিনি স্বাভাবিক সুস্থ পথে আছেন। সঠিকভাবে চলাফেরা করেন তাও তাকে সামাজিক বয়কট ও প্রতিবেশীদের রক্তচক্ষু আরো একবার প্রমান করলো আধুনিক সভ্যতা বিজ্ঞানকে আজ মানুষ জয় করলেও কুসংস্কার থেকে আজও বেরিয়ে আসতে পারিনি। আক্রান্ত রোগীর স্ত্রী মর্জিনা বিবি ও ছেলে বাবাকে এই ঘটনায় মারধর করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রতিবেশী আক্তারুল জামাল গাজী, গোলাম গাজী, জিয়ারুল গাজী সহ সাত জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।



















