রাজ্য – রাজ্য রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুললেন ভরতপুরের সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ূন কবীর। এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন দাবি করলেন, যা ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ পাল্টে দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর সাংবাদিকদের বাইট দিয়ে ফেরার পথে তাঁকে ফোন করেন এক সিপিআইএম নেতা। সেই ফোনালাপে সরাসরি কথা হয় সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য ও রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে।
হুমায়ূনের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ সেলিম তাঁকে ফোন করে প্রস্তাব দেন— যদি তিনি একটি সেকুলার রাজনৈতিক দল গঠন করেন, তাহলে সিপিআইএম সেই দলের সঙ্গে জোট বেঁধে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে আগ্রহী। এই বক্তব্য তিনি লাইভ অনুষ্ঠানে পুনরায় বলেন। হুমায়ূন-সিপিআইএম জোটপ্রস্তাব ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।
যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মহম্মদ সেলিম কিংবা সিপিআইএম কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। নীরবতাই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি দাবি সত্যি হয় তবে বিরোধী শিবিরে এক বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এই বিতর্কের মাঝেই হুমায়ূন আরেকটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন— তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী নাকি “৩০টি খুন করে নেতা হয়েছেন”। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস শিবির। একইসঙ্গে, নিজেকে রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরে হুমায়ূন বলেন, রাহুল গান্ধী সরাসরি জোটের প্রস্তাব দিলে তিনি তা বিবেচনা করতে পারেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট, তিনি এখন নিজের জন্য নতুন রাজনৈতিক পথ খুঁজছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, AIMIM, ISF-সহ একাধিক দল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ফলে রাজনৈতিকভাবে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রেই অবস্থান করছেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হুমায়ূনের জনপ্রিয়তা সীমিত, তবে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক বিরোধী শিবিরে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতি তৃণমূলের জন্যও অস্বস্তিকর। দলবিরোধী মন্তব্যের জেরে তাঁকে সাসপেন্ড করা হলেও প্রতিদিন নতুন নতুন দাবি সামনে আসছে, যা আগামী নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে পারে। আবার রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে— সেলিমের মতো অভিজ্ঞ নেতা কোনও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতিকে এত গুরুত্ব দেবেন না। অন্যদিকে একাংশ বলছে, বিরোধীদের এক মঞ্চে আনার চেষ্টা বহুদিন ধরেই চলছে। সেই প্রেক্ষিতে এমন প্রস্তাব অসম্ভব নয়।
বর্তমানে মূল প্রশ্ন— সত্যিই কি সিপিআইএম হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে জোট করতে চায়? যতক্ষণ না সেলিমের পক্ষ থেকে সাফ জবাব আসে, ততক্ষণ এই বিতর্ক আরও তীব্র হবে। আর এর প্রভাবেই ২০২৬ নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়ে চলবে তা নিশ্চিত।




















