
২৫ এপ্রিল, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এর ফলে সাধারন মানুষের আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। তার উপর আবার কেন্দ্রীয় সরকার কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ২০২১ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তকে একেবারেই অমানবিক বলে মনে করছে কংগ্রেস। শনিবার জুম কনফারেন্স কল মারফৎ একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে কেন্দ্রের সমালোচনায় সরব হন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। শনিবার মনমোহন সিং বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি করোনা পরিস্থিতিতে এইভাবে সাধারণ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও সেনাবাহিনীর উপর চাপ বাড়ানো অনৈতিক”। “আমাদের সেই মানুষজনের পাশে দাঁড়ানো উচিত যাঁদের এই মহামারীর অজুহাতে ন্যায্য মহার্ঘ ভাতা কাটা হচ্ছে”। একথাও বলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অমানবিক এবং অসংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেন রাহুল গান্ধী। দিল্লির সেন্ট্রাল ভিস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধির মতো প্রকল্পগুলিতে কোটি কোটি টাকা ঢালছে মোদি সরকার, শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের টাকা দেওয়ার বেলাতেই তাঁদের নেই-নেই ভাব, রীতিমতো কটাক্ষের স্বরে বলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি।
দিল্লির সৌন্দর্যায়ন প্রকল্প স্থগিত না করে কেন্দ্রীয় কর্মচারী, পেনশনভোগী ও জওয়ানরা যারা করোনা ভাইরাস নিয়ে লড়াই করছেন, জনসাধারণের সেবা করছেন তাদের ডিএ কেটে ফেলা হল। এটা সরকারের দিক থেকে যথেষ্ট অসংবেদনশীল এবং অমানবিক কাজ। আপনি মধ্যবিত্তের পকেট থেকে টাকা নিয়ে দেশের গরিবদের জন্যে দিচ্ছেন না, আপনি এই বিপুল অর্থ আপনার কেন্দ্রীয় ভিস্তা প্রকল্পের পিছনে ব্যয় করছেন”।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তার ফলে ১৭ শতাংশ থেকে মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ একলাফে বেড়ে ২১ শতাংশ করার ঘোষণা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে আপাতত সেই বৃদ্ধি স্থগিত করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার জানায়, জুলাই,২০২১ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা আর বাড়বে না। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, আপাতত মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের ফলে ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সরকারি কোষাগারের প্রায় ২৭,০০০ কোটি টাকা বাঁচবে।সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশ জুড়ে আর্থিক ধাক্কার মধ্যে পড়লেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ৪৮।৩৪ লক্ষ কর্মচারী এবং ৬৫।২৬ লক্ষ পেনশনভোগী মানুষজন।



















