দেশ – আকাশের বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাগুলির মধ্যে চন্দ্রগ্রহণ অন্যতম আকর্ষণীয়। বিজ্ঞান যেমন এই ঘটনার নির্ভুল ব্যাখ্যা দেয়, তেমনই ধর্মীয় ও জ্যোতিষশাস্ত্রেও গ্রহণকে ঘিরে রয়েছে নানা বিশ্বাস ও আচার। ২০২৬ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ কবে, তা ভারতের আকাশে কতটা দৃশ্যমান হবে এবং আগামী পাঁচ বছরে মোট কতগুলি চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে—এই প্রশ্ন এখন অনেকেরই। আগে থেকে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানা থাকলে পর্যবেক্ষক থেকে আচার পালনকারী—সবাই প্রস্তুতি নিতে পারেন সহজেই।
চাঁদ নিজে আলো বিকিরণ করে না; সূর্যের আলো প্রতিফলিত হওয়ার ফলেই আমরা তাকে উজ্জ্বল দেখি। যখন সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় অবস্থান করে এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে, তখন ঘটে চন্দ্রগ্রহণ। অবস্থান ও কৌণিক দূরত্বের তারতম্যে পূর্ণগ্রাস, খণ্ডগ্রাস বা উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়।
২০২৬ সালের ৩ মার্চ একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে, যা ভারতে আংশিকভাবে দৃশ্যমান হবে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী গ্রহণ স্পর্শ দুপুর ৩:২০ মিনিটে। একই বছর ২৮ অগস্ট খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ঘটলেও তা ভারতে দৃশ্যমান হবে না; গ্রহণ শুরু হবে ভোর ৬:৫৩ মিনিটে।
২০২৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দেখা যাবে, গ্রহণ শুরু রাত ২:৪২ মিনিটে। তবে ১৭ অগস্টের উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান হবে না; গ্রহণ শুরু সকাল ১০:৫৪ মিনিটে।
২০২৮ সালে তিনটি চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। ১২ জানুয়ারির খণ্ডগ্রাস গ্রহণ ভারতে দেখা যাবে না, শুরু সকাল ৭:৩৭ মিনিটে। ৬ জুলাইয়ের খণ্ডগ্রাস গ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান হবে, শুরু রাত ৯:১৪ মিনিটে। ৩১ ডিসেম্বরের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান হবে এবং এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ; গ্রহণ শুরু সন্ধ্যা ৭:৩৩ মিনিটে।
২০২৯ সালে ২৬ জুন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ঘটলেও তা ভারতে দেখা যাবে না; শুরু ভোর ৬:০৪ মিনিটে। তবে ২১ ডিসেম্বরের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান হবে, শুরু রাত ১:১২ মিনিটে।
২০৩০ সালে ১৫ জুন খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দেখা যাবে, শুরু রাত ৯:৪৪ মিনিটে। একই বছরের ১০ ডিসেম্বর উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণও ভারতে দৃশ্যমান হবে, শুরু রাত ১:৩৮ মিনিটে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ১১টি চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। এর মধ্যে একাধিক গ্রহণ ভারতের আকাশে দেখা যাবে, বিশেষ করে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং ২০২৯ সালের ২১ ডিসেম্বরের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
চন্দ্রগ্রহণ শুধু বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, বহু মানুষের কাছে এটি আধ্যাত্মিক গুরুত্বও বহন করে। তাই আগাম সূচি জানা থাকলে পর্যবেক্ষণ কিংবা আচার—উভয় ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা করা সহজ হয়।




















