২০২৬ বিধানসভা ভোটে কড়া নজর, বিএলওদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি

২০২৬ বিধানসভা ভোটে কড়া নজর, বিএলওদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য -;আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) ভূমিকা আরও সুসংহত করতে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। Election Commission of India-এর পূর্ববর্তী একাধিক নির্দেশিকার উল্লেখ করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত বিএলওদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কঠোরভাবে পালন করতে হবে। এই দায়িত্ব পালনে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশিকায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ (ভিআইএস) বিতরণের ওপর। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক বিএলও-কে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে এই স্লিপ পৌঁছে দিতে হবে। ভোটের অন্তত পাঁচ দিন আগে পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে। স্লিপ সরাসরি ভোটার বা তাঁর পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের হাতে দিতে হবে, একসঙ্গে বা বাল্কে বিলি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে নিরপেক্ষতা বজায় রাখাও বাধ্যতামূলক—কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিএলও-র বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুথের পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বিএলওদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা, ক্যামেরার সঠিক অবস্থান, আলো-বাতাসের উপযুক্ত পরিবেশ—সবকিছুর দায়িত্ব থাকবে বিএলও ও সেক্টর অফিসারদের ওপর। বিশেষ করে ভোটকক্ষের ভিতরে অতিরিক্ত আলো যাতে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ তাতে ভিভিপ্যাট যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে ভোটের গোপনীয়তা বজায় রেখে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
ভোটের দিন ভোটারদের সুবিধার্থে প্রতিটি বুথে থাকবে ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ’। সেখানে বিএলও-সহ নির্দিষ্ট কর্মীরা উপস্থিত থেকে ভোটারদের নাম খুঁজে পেতে সাহায্য করবেন। ইংরেজি বর্ণানুক্রমে প্রস্তুত তালিকা ব্যবহার করে সহজেই নিজের নাম যাচাই করতে পারবেন ভোটাররা। তবে ভোটের দিন আর কোনও ভিআইএস বিতরণ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মহিলা ভোটারদের কথা মাথায় রেখে বিশেষ নির্দেশও জারি করা হয়েছে। যেখানে পর্দানশীন মহিলার সংখ্যা বেশি, সেখানে তাঁদের শনাক্তকরণের জন্য মহিলা কর্মী নিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন বিএলওদের অন্য কোনও কাজে না লাগিয়ে বুথের প্রবেশপথে বসিয়ে ভোটার শনাক্তকরণের দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুরুষ ও মহিলা কর্মীদের সমন্বয় রেখে কাজ করার কথাও বলা হয়েছে।
নির্দেশিকার শেষ অংশে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—এই সমস্ত নির্দেশ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ পালন করতে হবে। কোথাও কোনও গাফিলতি ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে নির্বাচন মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top