উত্তরবঙ্গ – দীর্ঘ টানাপড়েন ও শহরজুড়ে উত্তেজনার পর অবশেষে বড় সাফল্য পুলিশের। শিলিগুড়ির গুরুঙ্গবস্তি এলাকায় নাবালিকা কিশোরীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক Amir Ali-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ঘটনার পর ভিন রাজ্যে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার ধাওয়া করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে পাকড়াও করে তদন্তকারীরা।
এই গ্রেফতারিকে ঘিরে স্বস্তি ফিরলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী Sankar Ghosh। রবিবার ধর্না মঞ্চ থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশের এত দেরি হওয়া অস্বাভাবিক। তাঁর দাবি, “কোনও অদৃশ্য রাজনৈতিক চাপের কারণেই এই দেরি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই গ্রেফতার সাধারণ মানুষের আন্দোলনের ফল এবং শহরবাসীর চাপেই পুলিশ সক্রিয় হতে বাধ্য হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে ডাকা বনধ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন Sankar Ghosh। অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ায় জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফেরাতে বনধ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানান, “ভোটের প্রচারের চেয়ে মৃত কিশোরীর বিচার পাওয়াটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত Amir Ali-কে ট্রানজিট রিমান্ডে শিলিগুড়ি আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁকে সোমবার আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তে উঠে এসেছে, কুলিপাড়া এলাকা থেকে কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পরই চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, ওই কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্ত গৃহশিক্ষকের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি তাঁর বাড়িতেই টিউশন পড়তে যেতেন।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ওই গৃহশিক্ষকই তাঁদের মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক ছিলেন। অবশেষে চেন্নাই থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যদিও গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি অনেকটাই থিতু হয়েছে, তবে “রাজনৈতিক চাপ” নিয়ে ওঠা অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকেই এখন নজর সবার।



















