কলকাতা- বর্ষশেষের আগেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ ২৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত তাঁকে বাড়িতেই সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছুটি পান পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বেলা দেড়টা নাগাদ তিনি নিজের নাকতলার বাড়ি বিজয়কেতনে ফেরেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসকরা তাঁকে আরও কিছুদিন বিশ্রামে থাকার পাশাপাশি নিয়মিত ফলো-আপের পরামর্শ দিয়েছেন।
চলতি মাসের ৪ তারিখে নিজের বাড়ির স্নানঘরে পড়ে গিয়ে বাঁ হাতে চোট পান পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেদিন বাড়িতেই পারিবারিক চিকিৎসক এসে প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। কিন্তু পরদিন ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর বাইপাসের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে টানা ২৫ দিন চিকিৎসা চলে। বর্তমানে তাঁর বাঁ হাতে ব্যান্ডেজ রয়েছে এবং চিকিৎসকদের মতে, ওই হাত দিয়ে আপাতত কোনও কাজ করা যাবে না।
উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় তিন বছর তিন মাস ১৯ দিন জেলে ছিলেন। গত ১১ নভেম্বর তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পান। জেল থেকে বেরিয়ে প্রথম দু’দিন অনুগামীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সংবাদমাধ্যমেও বক্তব্য রাখেন। তিনি বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিতে চাইলেও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর-এর কারণে অধিবেশন বসেনি। ফলে বিধানসভায় যাওয়ার সুযোগ হয়নি।
জেল থেকে মুক্তির পর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে বিচার চাইবেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই উদ্দেশ্যে তিনি একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজের সাসপেনশন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠান। তবে ১৩ নভেম্বরের পর থেকেই তিনি নিজেকে কার্যত গুটিয়ে নেন এবং বেহালা পশ্চিমে যাওয়া বা অনুগামীদের সঙ্গে দেখা করা বন্ধ রাখেন। এই সময়েই বাড়িতে দুর্ঘটনার জেরে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
সম্প্রতি মামলার শুনানিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত না থাকায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতের তরফে জানানো হয়, জামিনে থাকা কোনও অভিযুক্ত শুনানির দিনে অনুপস্থিত থাকলে তা গুরুতর বিষয়। ভবিষ্যতে এমন হলে জামিন বাতিল হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। তাঁর আইনজীবী শারীরিক অসুস্থতার কথা জানালেও আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারকের মন্তব্য ছিল, শুনানিতে উপস্থিত থাকা অভিযুক্তের আইনি দায়িত্ব এবং অসুস্থ হলে আগাম জানানো উচিত ছিল।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী শুনানিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে অবশ্যই হাজির থাকতে হবে। পাশাপাশি তিনি জামিনের কোনও শর্ত ভেঙেছেন কি না, তা নিয়েও নজরদারি চালানো হবে। তদন্তকারী সংস্থাকেও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর আগামী শুনানিতে পার্থ হাজিরা দেন কি না, সেদিকেই এখন নজর আদালত ও আইন মহলের।




















