২,৮০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতি: কলকাতার ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার ইডি, চার দিনের হেফাজত

২,৮০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতি: কলকাতার ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার ইডি, চার দিনের হেফাজত

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা -;প্রায় ২,৮০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতি মামলায় কলকাতার এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। অভিযুক্ত প্রত্যুষ কুমার সুরেকাকে শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাঁকে চার দিনের জন্য ইডি হেফাজতে পাঠায় বিশেষ পিএমএলএ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্তে জাল নথি তৈরি, ভুয়ো ডিরেক্টর নিয়োগ এবং হাজার কোটি টাকা অন্যত্র সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।
সূত্রের খবর, এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শ্রী গণেশ জুয়েলারি হাউস লিমিটেড। সংস্থাটি ও তার প্রোমোটাররা ২৫টি ব্যাঙ্কের কনসোর্টিয়াম থেকে প্রায় ২,৬৭২ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ। ২০১৬ সালে সিবিআই-এর দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতেই ইডি এই আর্থিক তছরুপের তদন্ত শুরু করে।
ইডির দাবি, ২০১১-১২ সালে গয়না ব্যবসার জন্য নেওয়া এই ঋণ মূল কাজে ব্যবহার না করে ‘সোলার পাওয়ার’ প্রকল্পে বিনিয়োগের নামে অন্য সংস্থায় পাঠানো হয়। তদন্তে উঠে এসেছে Alex Astral Power Pvt. Ltd.-এর নাম। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে প্রত্যুষ কুমার সুরেকা ওই সংস্থার জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর হওয়ার পর থেকেই একের পর এক আর্থিক অনিয়মের সূত্র মিলতে থাকে।
ইডির তদন্তকারীদের মতে, অ্যাস্ট্রাল গ্রুপের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ভুয়ো খরচ দেখিয়ে ও বানানো লোনের সাহায্যে পদ্ধতিগতভাবে কোটি কোটি টাকা বাইরে সরানো হয়েছিল। এই আর্থিক জালিয়াতির নেপথ্যে একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করছিল বলেও দাবি তদন্তকারীদের।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রত্যুষের বিরুদ্ধে গত ৫ জানুয়ারি লুক আউট নোটিস জারি করা হয়েছিল। শুক্রবার তিনি থাইল্যান্ড যাওয়ার জন্য কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন চেকের সময় তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে অন্য একটি মামলায় ইডি জানিয়েছে, হরিয়ানা ও রাজস্থান জুড়ে আবাসন প্রকল্প চালানো পিয়ুষ গ্রুপের বিরুদ্ধেও বড়সড় প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে। ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সংস্থাটি বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ৬০০ কোটির বেশি টাকা তুললেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়নি। ফরেনসিক অডিটে ব্যাপক ফান্ড ডাইভারশনের প্রমাণ মিলেছে এবং সংস্থার দুই মূল কোম্পানি বর্তমানে CIRP-এর আওতায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই কয়লা পাচার মামলায় তৃণমূলের ভোট কুশলী সংস্থা আই প্যাকের অফিসে ইডির হানাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ তুলেছেন, পাল্টা কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, তদন্তে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই একের পর এক আর্থিক জালিয়াতি মামলায় সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে ইডি।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top