পুরুলিয়া – পুরুলিয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে দুই মাসের নিষ্পাপ শিশুপুত্রকে নৃশংসভাবে আছাড় মেরে হত্যার ঘটনার রায় ঘোষণা করল আদালত। টামনা থানার ডুরকু গ্রামের বাসিন্দা সাগর রুহিদাসকে ১০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড দিলেন পুরুলিয়া জেলা আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (থার্ড কোর্ট) অম্বরীশ ঘোষ। শাস্তির মাত্রা ঠিক করতে গিয়ে বিচারক নিজেও প্রতিহত করতে পারেননি বিস্ময় ও ক্ষোভ।
মামলার সরকারি আইনজীবী অমিয় কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ঘটনাটি ঘটে ২০২২ সালের ৪ অগস্ট। সেদিন সাগরের স্ত্রী নেহারি রুহিদাস তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে বাপের বাড়ি যেতে চাইলে সাগর বাধা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দুই মাসের শিশুপুত্রকে স্ত্রী নিয়ে যেতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল বিবাদ বাধে। নেহারি আপত্তি উপেক্ষা করে চলে যেতে চাইলে হঠাৎই সাগর শিশুটিকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নেন।
অভিযোগ অনুসারে, ক্রোধে উন্মত্ত সাগর শিশুটিকে মাথার উপর ঘোরাতে ঘোরাতে মাটিতে জোরে আছাড় মারেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই মাসের ওই শিশুর। এরপর নেহারি টামনা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ সাগর রুহিদাসকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি জেলে ছিলেন।
বিচারের সময় ঘটনার নৃশংসতার বর্ণনা শুনে বিচারকও হতবাক হয়ে ওঠেন। সরকারি আইনজীবী জানান, বিচারক মন্তব্য করেন—“যিনি ২ মাসের শিশুকে এভাবে আছাড় মেরে হত্যা করতে পারেন, তিনি কী না করতে পারেন।” তাই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। তবে কোনও জরিমানা ধার্য করা হয়নি। সরকারি পক্ষের দাবি, অভিযুক্ত যাতে কোনওভাবেই জামিন না পান, সেদিকেও সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল।
এই রায় মানবিকতা-বিবর্জিত এক নিষ্ঠুর ঘটনার বিচারিক পরিণতিকে সামনে নিয়ে এল—যেখানে এক পিতার অমানবিক আচরণ স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো এলাকার মানুষকে।




















