৩৪ বছরের শাসনের পর বদল কি কৌশলে? বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকায় শরিকদের গুরুত্ব

৩৪ বছরের শাসনের পর বদল কি কৌশলে? বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকায় শরিকদের গুরুত্ব

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ৩৪ বছর ধরে রাজ্যে দাপটের সঙ্গে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট। সেই সময় কার্যত সরকারের মুখ্য ভূমিকায় ছিল সিপিএম। কিন্তু ২০১১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে একের পর এক পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে হয়েছে দলটিকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদলের পর আলিমুদ্দিনের সংগঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, বিশেষ করে দলে বৃদ্ধতন্ত্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ পায়। এই সময় নতুন মুখ হিসেবে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, শতরূপ ঘোষ, দীপ্সিতা সহ একাধিক তরুণ প্রার্থী ভোটের ময়দানে এলেও তারা এখনও নির্বাচনী সাফল্য পায়নি। ফলে রাজ্যে বামেদের আসনসংখ্যা শূন্যের গেরো থেকে বেরোতে পারেনি।
ক্ষমতায় থাকার সময়ে বামফ্রন্টের বড় শরিক দল ছিল সিপিএম। সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি-র মতো শরিকদের তুলনায় সিপিএমের প্রাধান্য নিয়ে অন্দরেই অসন্তোষের অভিযোগ ছিল। প্রার্থী বাছাই ও আসন বণ্টনে শরিকদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। সম্প্রতি তরুণ নেতৃত্বের একাংশ দলত্যাগ করে শাসকদলে যোগ দিয়েছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজ্য বামফ্রন্ট প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সাংবাদিক বৈঠক করে মোট ১৯২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। উপস্থিত ছিলেন শরিক দলের নেতৃত্বও। এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, এবার আসন বণ্টনে শরিকদের তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে রাঢ় বাংলা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় শরিকদের জন্য আসন ছেড়েছে সিপিএম।
বিমান বসু জানিয়েছেন, শরিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। অতীতের মতো দীর্ঘ টানাপোড়েন এবার দেখা যায়নি বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের আসন বণ্টন ও বাঘমুণ্ডি সংক্রান্ত অতীত বিতর্কের পর এবার সমঝোতার পথেই হাঁটতে দেখা গেছে বামফ্রন্টকে। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির বাস্তবতা বুঝেই সিপিএম হয়তো নিজেদের ঐতিহ্যগত ‘বড়দা’ ভাবমূর্তি থেকে সরে এসে সমন্বয়ের কৌশল নিয়েছে।
প্রার্থী তালিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এখন প্রশ্ন উঠছে—এটা কি কৌশলগত পরিবর্তন, নাকি রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা? শরিকদের গুরুত্ব বাড়িয়ে বামফ্রন্ট কি নতুন করে সংগঠন শক্তিশালী করতে চাইছে? আগামী নির্বাচনের ফলই হয়তো সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top