
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি, ১ মার্চ, বৃহস্পতিবার রাতে কাজ থেকে ফেরার সময়ে ট্রেনে এক ব্যবসায়ীর ৮৪ হাজার টাকাভর্তি ব্যাগ পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ নাম এক স্কুল ছাত্র। পেশায় তিনি সাফাইকর্মী। ব্যাগ থেকে পাওয়া টাকা তাঁর প্রায় ১১ মাসের রোজগার। কিন্তু তা জেনেও তিনি নেননি। ওই রাতেই বাবার সঙ্গে মানকুণ্ডু স্টেশনে দাঁড়িয়ে থেকে ফোনে যোগাযোগ করে সুমিত শীল নামে শ্রীরামপুরের ওই ব্যবসায়ীকে তাঁর টাকা সমেত ব্যাগ ফিরিয়ে দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিলেন ছাত্র।
বিশ্বনাথ প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার হাড়ভাঙা পরিশ্রমে মাসে ৮ হাজার টাকা বেতন পান। বাড়িতে অভাব প্রকট। তারপরও পাওয়া টাকা আত্মসাৎ করার কথা কখনও ভাবেননি মানকুণ্ডু স্টেশন লাগোয়া এলাকার বাসিন্দা, বছর উনিশের বিশ্বনাথ দুলে।মানকুণ্ডু স্টেশনের পাশেই বিশ্বনাথের বাবা লক্ষ্মীকান্ত দুলের চা এবং লটারির টিকিট বিক্রির গুমটি রয়েছে।
জানা যায়, এদিন বৃহস্পতিবার কাজ সেরে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বাড়ি ফেরার সময় ভুল করে বিশ্বনাথের ব্যাগ নিয়ে শ্রীরামপুরে নেমে পড়েন সুমিত নামে এক ব্যবসায়ী। কিছুক্ষণ পরে বুঝতে পারেন, অন্যের ব্যাগ নিয়ে নেমেছেন। তাঁর ব্যবসার টাকা ভর্তি ব্যাগ ট্রেনেই রয়ে গিয়েছে। বিষয়টি তিনি শেওড়াফুলি জিআরপি-র আধিকারিককে জানান। ব্যাগে থাকা ফোনে তিনি ফোন করেন। মনে সংশয় ছিল, কেউ কী ফোন ধরবে? ব্যাগ কি ফিরে পাওয়া যাবে?তবে সে সংশয় খুব দ্রুত দূর হয়ে গেল।ফোন ধরেছিলেন বিশ্বনাথ।তারপরই শ্রীরামপুর থেকে পরের ট্রেন ধরে সওয়া ১১টা নাগাদ মানকুণ্ডু স্টেশনে পৌঁছন সুমিত। দেখেন, ওই তরুণ তাঁর ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।ব্যাগ ফিরে পেয়ে খুবই খুশি হন সুমিত বাবু।



















