
আড়াই বছরের শিশুকন্যার হত্যার পর থেকেই থমথমে হয়ে রয়েছে উত্তর প্রদেশের আলিগড়ের টপ্পল। শনিবার রাতে মূল অভিযুক্ত জাহিদ, তার স্ত্রী এবং সহযোগী আসিফ সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তারপরও রবিবার সকালে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টপ্পলজুড়ে ফ্ল্যাগ মার্চ করছে আট কোম্পানি র্যাফ এবং প্রভিন্শিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারি বা প্যাক। রয়েছে প্রচুর সংখ্যক পুলিসকর্মীও। অ্যান্টি–রায়ট গাড়ি টহল দিচ্ছে। মামলার সুবিচার চেয়ে গত দুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘টপ্পল চলো’ এবং মহাপঞ্চায়েতের ডাক দিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। তার জেরে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শনিবার রাতেই টপ্পল সীমানা সিল করে দেয় জেলা পুলিস। টপ্পলগামী হিন্দু মঞ্চের সদস্যদের জালালপুর পুলিস ফাঁড়ি এবং সাধ্বী প্রজ্ঞা টপ্পল জেওয়ারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গ্রামীণ পুলিস সুপার মণিলাল পাটিদারের দাবি, পুলিসি পদক্ষেপে খুশি হয়েই মহাপঞ্চায়েত বাতিল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীদের নেতারা। ‘তবে যদি অল্প সংখ্যক মানুষের জমায়েত হয়ও তা সামলানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আছে। আমরা এখানে কোনও অশান্তি ঘটাতে দেব না’, জানালেন মণিলাল। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের এলাকা ছেড়ে পালানোর কথাও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
আলিগড়ের সিনিয়র পুলিস সুপার বা এসএসপি আকাশ কুলহারি জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত জাহির মৃত শিশুর বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিল। পরে জাহিদ সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিতে পারেনি। উল্টে পুরো টাকা ফেরত চাইতে গেলে শিশুর বাবাকে হুমকি দেয় সে। এরপর গত ৩১ মে মেয়ের নিখোঁজের অভিযোগ থানায় দায়ের করেন নিহত শিশুকন্যার বাবা–মা। তার দিন দুয়েক পর গত দুতারিখ আবর্জনার স্তুপের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় শিশুকন্যার ক্ষতবিক্ষত পচাগলা দেহ। দেহটি কয়েকটি কুকুর টানাটানি করছিল, তা স্থানীয় মানুষদের চোখে পড়তেই ঘটনা সামনে আসে। কুলহারি আরও জানিয়েছেন, শিশুর বাবা–মা এবং প্রতিবেশীরা শিশুকে ধর্ষণের পর খুনের দাবি করলেও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে শিশু ধর্ষিতা হয়নি। তবে তাকে মারধরের পর গলা টিপে খুন করা হয়েছিল। তার হাত দুটি ভাঙা ছিল। চোখ খুবলে নেওয়া হয়েছিল। গত শুক্রবারই ওই হত্যায় সিট গঠন করেছে রাজ্য পুলিস। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসনকে রিপোর্ট দেবে সিট।
অন্যদিকে আলিগড়ের বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কৌশিক জানিয়েছেন, টপ্পল মামলায় তাঁদের সংগঠনের কোনও আইনজীবীই অভিযুক্তদের হয়ে মামলা লড়বেন না। বাইরের কোনও উকিলকেও ওই মামলা লড়তে দেওয়া হবে না। টপ্পলকান্ডের তীব্র নিন্দা করে দোষীদের চরম শাস্তির দাবি করেছে চলচ্চিত্র জগতও।



















