বিদেশ – তিব্বতের নিয়িংচি শহরে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করল চিন। শনিবার ‘মেইনলিং হাইড্রোপাওয়ার স্টেশন’-এর নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘শিনহুয়া’র রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, অর্থাৎ ১৬৭.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে ইয়ারলুং জাংবো নদীর নিম্নপ্রবাহে, যা ভারতে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত। এর অবস্থান ভারতের অরুণাচল সীমান্তের একেবারে কাছেই, যার ফলে ভারতের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ ছড়িয়েছে। একইসঙ্গে আশঙ্কায় রয়েছে বাংলাদেশও। দুই দেশই ব্রহ্মপুত্র নদের ভাটির অংশে অবস্থান করছে, ফলে চিন যদি নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, তা হলে তা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের জলসম্পদের উপর।
চিনের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পে মোট ৫টি ক্যাসকেড হাইড্রোপাওয়ার স্টেশন তৈরি হবে। ২০২৩ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রকল্প থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে, যা প্রায় ৩০ কোটি মানুষের বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সক্ষম।
চিন স্পষ্ট করেছে, উৎপন্ন বিদ্যুৎ মূলত দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে, তবে তিব্বতের স্থানীয় চাহিদাও এতে পূরণ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন, পাওয়ার কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন অফ চায়না-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিরা।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে ভারত এই প্রকল্প নিয়ে চিনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করেছিল। পরে বাংলাদেশও একই সুরে উদ্বেগ প্রকাশ করে। দুই দেশই চিনকে আন্তর্জাতিক জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং ভাটির দেশের স্বার্থে নদীর স্বাভাবিক গতি বজায় রাখার আবেদন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু পরিবেশগত নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার জল-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
