মিড-ডে মিলে ইলিশ! প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে খুশির হাওয়া সুন্দরবনের স্কুলে

মিড-ডে মিলে ইলিশ! প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে খুশির হাওয়া সুন্দরবনের স্কুলে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



দক্ষিন 24 পরগণা – সাধারণত মিড-ডে মিলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য থাকে খিচুড়ি, সাদা ভাত, ডিম, সোয়াবিন বা সবজির ঝোল—একঘেয়ে সেই তালিকায় এবার দেখা মিলল বিরল এক ব্যতিক্রমের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকের উলুবাড়ি বেড়মাল অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রতি মিড-ডে মিলে পরিবেশন করা হয়েছে ইলিশ মাছ, যা নিয়ে খুশির জোয়ার বইছে গোটা এলাকা জুড়ে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেদিনের মেনুতে ছিল খিচুড়ি, বেগুন ভাজা, ইলিশ ভাজা এবং মিষ্টি। এমন আকর্ষণীয় খাবার পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছাত্র-ছাত্রীরা। পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী অনুশ্রী বৈদ্য জানায়, জীবনে প্রথমবার মিড-ডে মিলে ইলিশ পেয়ে সে দারুণ খুশি। শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নয়, অভিভাবকরাও এই উদ্যোগে অভিভূত। এক অভিভাবক বিভা হালদার বলেন, আশেপাশের কোনো স্কুলে এমন দৃষ্টান্ত আগে দেখেননি।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক শশাঙ্ক হালদার। তিনি নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে প্রায় ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ কিনে এনেছেন। তাঁর কথায়, স্কুলটি সুন্দরবনের এক প্রান্তিক এলাকায় অবস্থিত। এই অঞ্চলের রায়দিঘি ঘাট থেকে ইলিশ মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রফতানি হলেও, এখানকার গরিব মানুষজন বা ছাত্র-ছাত্রীরা খুব কমই ইলিশ খাওয়ার সুযোগ পায়। সেই চিন্তা থেকেই মিড-ডে মিলে স্বাদে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যে এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তিনি।

প্রায় ১০০ জন ছাত্র-ছাত্রী এবং ৩ জন শিক্ষক নিয়ে চলা এই ছোট্ট বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের এই মানবিক উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের। ভবিষ্যতে সময় ও সামর্থ্য থাকলে আবারও এমনভাবে ইলিশ পরিবেশনের আশ্বাস দিয়েছেন শশাঙ্কবাবু। মিড-ডে মিলে পুষ্টিকর খাদ্যের সঙ্গে যদি এমন আনন্দও যোগ হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top