রাজ্য – এক সপ্তাহের মধ্যে অযোগ্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করতে হবে—এমন নির্দেশ আগেই দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ মেনে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) জানিয়েছে, শনিবারই প্রকাশিত হবে অযোগ্য বা ‘টেন্টেড’ প্রার্থীদের তালিকা। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এসএসসির সরকারি ওয়েবসাইটেই দেখা যাবে সেই তালিকা। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলার শুনানিতে এসএসসির আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রায় ১,৯০০ অযোগ্য শিক্ষকের নামের তালিকা তৈরি হয়ে গেছে।
এর আগে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগের জন্য ফের পরীক্ষা দিতে হবে যোগ্য প্রার্থীদের। নতুন করে পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে কারও সঙ্গে কোনও বৈষম্য করা হবে না। ইতিমধ্যেই যোগ্য প্রার্থীদের হাতে পৌঁছে গেছে প্রভিশনাল অ্যাডমিট কার্ড। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই পরীক্ষা।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অযোগ্য প্রার্থীরা যাতে কোনওভাবেই নতুন পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে এসএসসিকে। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, যদি একজনও অযোগ্য প্রার্থী পরীক্ষার্থীদের তালিকায় থাকে, তাহলে তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে নিতে হবে এসএসসিকেই। আদালতের এই হুঁশিয়ারির পরে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে কমিশন।
শনিবার তালিকা প্রকাশের আগে এসএসসির কর্মকর্তারা প্রতিটি তথ্য খুঁটিয়ে যাচাই করছেন। এসএসসির তরফে আদালতে জানানো হয়েছিল, নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগে ৯৯৩ জন এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগে ৮১০ জন অযোগ্য প্রার্থী চাকরি পেয়েছিলেন। সেই তালিকা আরও একবার খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কারণ সামান্য ভুলও আদালতের সামনে কমিশনকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে।
অযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে বহুজন আদালতে আবেদন করেছেন। তাঁদের নাম এবং বিস্তারিত তথ্যও শনিবার প্রকাশিত তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে। এসএসসি এখন সেই আবেদনগুলির সঙ্গে চূড়ান্ত তালিকার নাম মিলিয়ে দেখার কাজ চালাচ্ছে। যতটুকু সময় হাতে রয়েছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কোনও ভুলের সুযোগ রাখতে চাইছে না কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের কারণে এই বিষয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ এসএসসির কর্মকর্তারা।
