রাজ্য – পুজো আসতে আর মাত্র ক’টা দিন বাকি। এক সপ্তাহ পরেই মহালয়া। শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। কিন্তু তার মাঝেই রাজ্যে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা অব্যাহত। কখনও নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘ, আবার হঠাৎই নেমে আসছে বৃষ্টি। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গবাসীর কাছে এই আবহাওয়া যেমন কাব্যিক, তেমনই অস্বস্তিকর। কারণ বেশিরভাগ সময় বৃষ্টি না হলেও রোদের সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মহালয়ার পর থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে এবং পুজোর মূল চার দিনেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শপিং কিংবা প্যান্ডেল হপিংয়ের পরিকল্পনা করা মানুষের জন্য আবহাওয়ার খবরে নজর রাখা জরুরি। রবিবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মেঘলা থাকবে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, যদিও অনেক জায়গায় মেঘ জমলেও বৃষ্টি নামবে না। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টি হলেও গরম ও আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা পরিবেশ বজায় থাকবে।
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা উপকূল সংলগ্ন অঞ্চলে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। যদিও এর সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়ছে না, তবে এর ফলে বিপুল জলীয় বাষ্প দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করছে। যার জেরে সোমবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। সোম ও মঙ্গলবারও দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় আকাশ মেঘলা থেকে যাবে এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। তবে আপাতত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও গুরুতর। রবিবার ও সোমবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যার জেরে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। কালিম্পং, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরেও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি চলবে, সঙ্গে বইবে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগের ঝোড়ো হাওয়া।



















