ঘূর্ণিঝড় মান্থার ছায়ায় বাংলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা, সতর্ক আইএমডি

ঘূর্ণিঝড় মান্থার ছায়ায় বাংলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা, সতর্ক আইএমডি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – শরতের শেষ প্রান্তে এসে বাংলার আকাশে আবারও ঘনিয়েছে মেঘের ছায়া। বঙ্গোপসাগর থেকে উৎপন্ন ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ ইতিমধ্যেই আন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনে দুর্বল হয়েছে, কিন্তু এর অবশিষ্ট প্রভাব এখন ছড়িয়ে পড়ছে পশ্চিমবঙ্গে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর শুক্রবার থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় বাংলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলাগুলিতে ধসের আশঙ্কা প্রবল। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় জারি করা হয়েছে ‘লাল সতর্কতা’। পাহাড়ি রাস্তায় যান চলাচলে বিঘ্ন, ধস এবং বন্যার সম্ভাবনা বাড়ছে। প্রশাসন ইতিমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে চা-বাগান ও পর্যটন অঞ্চলে। পাশাপাশি মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গেও রেহাই নেই। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং বীরভূমে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতায় বৃষ্টিতে রাস্তায় জল জমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবারও বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।

আইএমডি জানিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। এই সময় হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যা গাছপালা উপড়ে দিতে সক্ষম। উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা থাকবে ১৮–২৮ ডিগ্রির মধ্যে, আর দক্ষিণবঙ্গে সর্বোচ্চ ৩০ ও সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রির আশেপাশে। আর্দ্রতা ৮০–৯০ শতাংশ থাকায় আবহাওয়া শীতল হলেও অস্বস্তিকর।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কৃষি ও মৎস্যখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উত্তরবঙ্গের ধানক্ষেত ও চা-বাগানে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ ঢেউয়ের উচ্চতা ৩–৪ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

রাজ্যের প্রশাসন ইতিমধ্যে জরুরি প্রস্তুতি শুরু করেছে। উপকূল ও পাহাড়ি এলাকায় রিলিফ ক্যাম্প খোলা হয়েছে, এবং নিকাশী ব্যবস্থাকে সচল রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অক্টোবরে এই ধরনের ঘূর্ণিঝড় একসময় বিরল ছিল, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন তা ক্রমশ ঘন ঘন ঘটছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে আইএমডি।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top