জলপাইগুড়ি – জলপাইগুড়ির ১২ নম্বর ওয়ার্ডে শুক্রবার দুপুরে তৃণমূলের ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, তৃণমূল হবে — কিন্তু কেউ মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে থাকলে তা মেনে নেওয়া হবে না। যাঁরা মাদক-বিক্রিতে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে; প্রয়োজন হলে জেলে পাঠানো হবে।
সৈকত মাইকে নামও উচ্চারণ করে বলেন, তাঁর কাছে তথ্য আছে যারা ব্রাউন সুগার, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং গাঁজা বিক্রি করছেন তাদের সম্পর্কে। এমনকি তিনি নির্দিষ্ট নামও তুলে ধরেন এবং দ্রুত সচেতনতার উদ্যোগ ও জোরদার অভিযান চালানোর কথা জানান। জলপাইগুড়ি শহরে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাউন সুগারসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের কারবার বৃদ্ধি পেয়েছে—এই মারণ নেশা রুখতেই পৌরসভার উদ্যোগে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করেছেন তিনি।
পৌরসভার কাউন্সিলর ও শহরের বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে গড়া এই অরাজনৈতিক মঞ্চ পাড়া-প্রতিপাড়ায় গিয়ে দিনে-রাতে সচেতনতা প্রচার চালাচ্ছে। লিফলেট বিতরণ, ফোনে টোল ফি নম্বর চালু করে তথ্য সংগ্রহ ও কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আজ সচেতনতামূলক প্রচারের তৃতীয় দিনটিতে জয়ন্তী পাড়াতেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তিনি আরো বলেন, “এতদিন ধরে আমরা মাদক সচেতনতা তৈরি করছি। আমাদের কাছে তথ্য আছে — কারা কারা ব্রাউন সুগার বিক্রি করছেন, কারা ইয়াবা ট্যাবলেট এবং কারা গাঁজা বিক্রি করছেন। বাপি ঘোষ আর মিরিন্ডা—সচেতন হও, ব্রাউন সুগারের ব্যবসা বন্ধ কর। এই সব ড্রাগ নিয়ে ডাকাতি, খুন—সব ঘটছে; এটা চলতে পারে না।” সৈকত সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেন, তাদের দেওয়া নম্বরে গোপনে তথ্য জানাতে যাতে দায়ীরা উদঘাটিত হয়; নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনও মাঝে-মধ্যে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে; সৈকত দাবি করেন, এই সমস্ত অভিযানের সঙ্গে পৌরসভার মাদকবিরোধী উদ্যোগকে সমন্বিতভাবে এগোনো হবে। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে এবং কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে এই বিপজ্জনক প্রবণতা রোধ করাই মূল লক্ষ্য বলেও তিনি জানান।




















