জলপাইগুড়ি – নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (KLO) প্রধান জীবন সিংহ আবারও নিজের গোপন আস্তানা থেকে প্রকাশ্যে বার্তা পাঠিয়েছে। একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে এই জঙ্গী নেতাকে। আর এবার ভোটের ঠিক আগে জীবনের নতুন ভিডিও বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ওই ভিডিওতে, যার সত্যতা টিভি৯ বাংলা যাচাই করেনি, জীবন সিংহকে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের পক্ষ নিয়ে সওয়াল করতে শোনা গিয়েছে।
জীবন সিংহ ভিডিও বার্তায় দাবি করেছে, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার রাজবংশী ও কামতাপুরী জনগণের উপর “অত্যাচার” চালাচ্ছে। সে অভিযোগ করে বলেছে, উত্তরবঙ্গের রাজবংশী জনগণ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন, আর এই অবিচারের অবসান ঘটাতেই হবে। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য করার দাবিও তোলে সে। শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজবংশী সাংসদ ও বিধায়কদের উদ্দেশে জীবন আহ্বান জানিয়েছে, যেন তাঁরা “রাজবংশী মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করা বন্ধ করে দল ত্যাগ করেন।”
ভোটের মুখে এই বার্তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, উত্তরবঙ্গে যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করলেও, এখনও বিজেপির জমি শক্ত রয়েছে, সেখানে জীবন সিংহের এই ‘রাজবংশী ইমোশন’-ভিত্তিক বার্তা নতুন করে তৃণমূলের মাথাব্যথা বাড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—বঞ্চনার ইস্যুকে সামনে রেখে কি তৃণমূলের ভোটভিত্তি দুর্বল করার পরিকল্পনা নিচ্ছে কেএলও চিফ? নাকি রাজবংশী তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের মধ্যে বিভাজন তৈরিই তার উদ্দেশ্য?
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও জীবন সিংহ একইভাবে আলাদা রাজ্য গঠনের দাবিতে সরব হয়েছিল। সে সময় মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সে বলেছিল, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচ-কামতাপুরে পা ফেলবেন না। কোচ-কামতাপুর গঠনে কোনও হস্তক্ষেপ বা বিরোধিতা তিনি করতে পারবেন না।” এবার ফের ভোটের আগে সেই একই সুরে বক্তব্য রাখায় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও ঘটনাটির দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।
অন্যদিকে, এই বার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সম্প্রতি রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণ এক অপহরণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত। গত ২৮ অক্টোবর নিউটাউনের একটি সোনার ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয়, এবং পরবর্তীতে রাজগঞ্জের বিধায়কের নামও তদন্তে উঠে আসে। ঠিক এই সময়ে সেই অভিযুক্তের পক্ষে দাঁড়ানোয় কেএলও প্রধানের ভূমিকা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




















