উত্তর 24 পরগণা – যেমন কথা তেমন কাজ—মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর বারাসতের দুর্ঘটনায় মৃত যুবক প্রীতম ঘোষের মায়ের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার। বুধবার কাজীপাড়া নেতাজিনগরে পরিবারের বাড়িতে উপস্থিত হন তিনি। সঙ্গে ছিলেন বারাসত রেঞ্জের ডিআইজি ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, জেলা পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খরিয়া ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতীশ বিশ্বাস।
অন্যদিকে, মৃতের চোখ চুরি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গঠন করেছে তদন্ত কমিটি। বুধবার দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ অভিজিৎ সাহা জানান, পরিবারের লিখিত অভিযোগ পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইডলাইন অনুযায়ী তিন সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রিপোর্ট স্বাস্থ্য ভবনে জমা পড়বে। পুলিশের কাছেও পাঠানো হবে সেই রিপোর্টের কপি।
মৃতের মেসোমশাই কৃষ্ণ ঘোষ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী কথা রাখায় পরিবার সন্তুষ্ট। রাতেই নিমতলা শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। সোমবার কাজীপাড়া রেলগেট সংলগ্ন যশোর রোডে মালবাহী গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হন বছর পঁয়ত্রিশের প্রীতম। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, দেহের চোখ নিখোঁজ। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইঁদুর চোখ খেয়ে নিয়েছে—যা মানতে নারাজ পরিবার। এরপরই যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
সেই সময় বনগাঁ থেকে ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষোভ দেখেই কনভয় থামিয়ে তিনি পরিবারের কাছ থেকে পুরো ঘটনা শোনেন এবং সঠিক তদন্ত, আর্থিক সাহায্য ও মৃতের মায়ের জন্য চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেন। বুধবার সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়। তদন্ত কমিটিও ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।
যদিও পরিবারের অভিযোগ, মর্গের ফ্রিজিং সিস্টেম নষ্ট থাকায় বরফ কেনার জন্য নিজেদের খরচ করতে হয়েছে। মৃতের আত্মীয় দীপু হাজরা প্রশ্ন তুলেছেন, “ইঁদুর যদি চোখ তুলে নেয়, তবে শরীরের অন্য অংশ অক্ষত থাকে কীভাবে? সত্যিটা হাসপাতাল জানাক। ময়নাতদন্তের ঘরে তুলসি পাতা কেন দেওয়া হয়েছিল? আমরা বিচার চাই।”




















