রাজ্য – শীতের প্রথম স্পর্শে পশ্চিমবঙ্গের আকাশ আজ যেন শান্ত, স্বচ্ছ এবং বেশিরভাগই শুকনো। আইএমডির সর্বশেষ বুলেটিন জানাচ্ছে—উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই মূলত শুকনো আবহাওয়া বিরাজ করবে। দক্ষিণবঙ্গেও বেশিরভাগ জায়গায় শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে, যদিও উপকূলীয় জেলাগুলিতে—পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সবর্গে—কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সপ্তাহের এই আবহাওয়া কৃষক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে, তবে সকালের কুয়াশা কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে।
উত্তরবঙ্গে আজও তাপমাত্রার তেমন পরিবর্তন নেই। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দুই দিনাজপুর, মালদা ও উত্তর ২৪ পরগনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে ঘুরবে। সর্বোচ্চ থাকবে ২৫–২৮ ডিগ্রির কাছাকাছি। দার্জিলিংয়ের উচ্চভূমিতে সকালে হালকা কুয়াশা দেখা দিতে পারে, যা চা-বাগানের শ্রমিকদের কাজে কিছুটা প্রভাব ফেলবে। ধান কাটার শেষ পর্যায়ে থাকা কৃষকেরা শুকনো আবহাওয়াকে স্বস্তির চোখে দেখছেন।
দক্ষিণবঙ্গে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান, বীরভূমসহ অধিকাংশ জেলায় আকাশ পরিষ্কার থাকবে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮–৩০ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ১৮–২০ ডিগ্রি। তবে উপকূলীয় অংশ যেমন ডায়মন্ড হারবার, কাঁথি, হালিশহরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি বা বিকেলে হালকা বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আইএমডি মৎস্যজীবীদের সতর্ক করে জানিয়েছে—সকালে মাছ ধরতে গেলেও বিকেলে আকাশ মেঘলা হলে দ্রুত নৌকা ভেড়ে নেওয়া উচিত।
কলকাতায় আজ সকালেও হালকা কুয়াশা দেখা গেছে। এর ফলে দৃশ্যমানতা কমে ট্রাফিক কিছুটা ধীর হয়েছে। কর্মজীবী মানুষের অনেকে বলছেন, শীতের শুরু মন ভালো করলেও কুয়াশার কারণে রাস্তায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
আইএমডির বুলেটিন অনুযায়ী, আজ সকাল ৮:৩০ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বড় কোনও সতর্কতা নেই। উত্তরবঙ্গে থাকবে ‘জেনারেলি ক্লিয়ার স্কাই’, দক্ষিণে ‘পার্শিয়ালি ক্লাউডি’ অবস্থা। তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বে থাকা আপার-এয়ার সাইক্লোনিক সার্কুলেশনের প্রভাব রাজ্যে খুবই সীমিত। আগামী সপ্তাহেও তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। তবে উত্তর ভারতের বাড়তি কুয়াশার প্রভাব উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় দেখা দিতে পারে।




















