রাজ্য – এসএসসি ২০১৬ প্যানেলের আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, পুরনোদের সঙ্গে নতুনদের একসঙ্গে বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন ২৭ নভেম্বর দাগিদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু তাতেও জটিলতা কাটছে না। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনার জন্য লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন যোগ্য শিক্ষক প্রতিনিধি সুমন বিশ্বাস।
তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, শিক্ষক নিয়োগ, এসএসসি ২০১৬ প্যানেলের যোগ্য শিক্ষকদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বিদ্যালয়ে পুনর্বহালের বিষয় এবং নতুন চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে—তা সমাধানের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসতে চান তাঁরা। তাঁর দাবি, ২০১৬ প্যানেলের একজন যোগ্য শিক্ষকও যেন বঞ্চিত না হন। প্রায় আট মাস ধরে যোগ্য শিক্ষকদের বেতন বন্ধ—সেই বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান তিনি। পাশাপাশি সহযোগিতার আশ্বাসও চেয়েছেন।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে ইন্টারভিউ প্রার্থীদের নথি যাচাইয়ের তালিকাও চলতি মাসে প্রকাশ করেছে এসএসসি। ২০১৬ প্যানেলের অনেকে নতুন তালিকা অনুযায়ী ডাক পেলেও, অনেকেই পাননি। ডাক আসেনি আন্দোলনের মুখ চিন্ময় মণ্ডল, সুমন বিশ্বাস, মেহেবুব মন্ডলদেরও।
নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত জানতে চেয়েছে, কেন পুরনো এবং নতুনদের একসঙ্গে পরীক্ষায় বসতে হল এবং এত তাড়া কেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ—পুরনো প্রার্থীদের সমস্যা রাজ্য সরকারকেই সমাধান করতে হবে, তবে নতুনদের ভবিষ্যৎ যাতে বিপন্ন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এসএসসি-সংক্রান্ত সব মামলাই কলকাতা হাইকোর্টে চলবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আগামী ২৮ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হাইকোর্টে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর এখন সেই শুনানিকেই কেন্দ্র করে আশা ও উদ্বেগ—আন্দোলনকারী, চাকরিপ্রার্থী ও রাজনৈতিক মহলের সকলেরই দৃষ্টি সেদিকেই।




















